ক) বিভিন্ন ভরসংখ্যাবিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
খ) তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা। এটি কোনো ভৌত ও রাসায়নিক কারণ যেমন : উষ্ণতা, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র, জারণ ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে না। রাসায়নিক সংযোগের ফলে তেজস্ক্রিয় ভাঙন প্রভাবিত হয় না। যেমন : তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম অতেজস্ক্রিয় মৌল ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করে রেডিয়াম ক্লোরাইড (RaCl₂) যৌগ গঠন করে। এ বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে বাইরের স্তরের ইলেকট্রন অংশগ্রহণ করে ফলে পরমাণুর ইলেকট্রন কাঠামোর পরিবর্তন ঘটে কিন্তু নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না।
নির্দিষ্ট পরিমাণ রেডিয়াম ও তার থেকে উৎপন্ন RaCl₂ যৌগের ক্ষেত্রে দেখা যায় রেডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় এবং RaCl₂ যৌগের রেডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে ঠিক একই রকম তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়।
সুতরাং এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, তেজস্ক্রিয়তা হলো একটি নিউক্লিয় ঘটনা।
গ) তেজস্ক্রিয়তার বহুল ব্যবহার রয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানে, কৃষিক্ষেত্রে ও শিল্প-কারখানাতে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ করে দুরারোগ্য ক্যানসার রোগ নিরাময়ে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার আজ বহুল প্রচলিত। এছাড়া বিভিন্ন রোগ যেমন : কিডনির ব্লকেড, থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় ট্রেসার বা প্রদর্শক বা সন্ধায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ করে উন্নত জাতের বীজ তৈরি ও গাছের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ধরনের সার ব্যবহৃত হয়। কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ করে উন্নত জাতের বীজ তৈরি ও গাছের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ধরনের সার উৎপাদনের গবেষণায় তেজস্ক্রিয় ট্রেসার সফলতার সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিল্প কারখানাতেও তেজস্ক্রিয়তা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতে, কাগজকলে কাগজের পুরুত্ব নিয়ন্ত্রণে, আগুনের ধোঁয়ার উপস্থিতি নির্ণয়ে, ধাতব ঝালাই যাচাইয়ে তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহৃত হচ্ছে। খনিজ পদার্থে বিভিন্ন ধাতুর পরিমাণ নির্ণয়েও এর ব্যবহার রয়েছে। এমনকি রোগ নির্ণয়ের কাজেও তেজস্ক্রিয় সন্ধায়ক সফলতার সাথে কাজে লাগানো হচ্ছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, তেজস্ক্রিয়তা আমাদের বাস্তবজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগে এবং গবেষণায় এর ব্যবহার উল্লেখ করার মতো।
ঘ) তেজস্ক্রিয়তা আমাদের অনেক উপকারে লাগলেও এ থেকে বিপদের আশঙ্কাও রয়েছে বিপুল পরিমাণে। তেজস্ক্রিয় ক্ষয় বা বিভাজনের ফলে যে সকল রশ্মি বিকিরিত হয় তা জীবদেহে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সমর্থ। উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানবদেহে নানা রকম ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে। দীর্ঘদিন মাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে মানুষ তথা প্রাণিজগতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, বিকলাঙ্গতাও সৃষ্টি হতে পারে। তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব বংশপরম্পরায়ও পরিলক্ষিত হয়। আজকাল তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সম্পর্কে নানা কথা পত্রপত্রিকায় দেখা যায়। পারমাণবিক চুল্লি বা অন্য বিকিরণ উৎসে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত অকেজো যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও সরঞ্জামাদিকে বর্জ্য বলা হয়। এ সকল বর্জ্য পদার্থ তেজস্ক্রিয় বিকিরণের উৎস হিসেবে কাজ করে বলে এসব বর্জ্য পদার্থ প্রাণিজগতের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।