ক) মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পন্ডিলযন্ত্রের যেসব তন্তুর সাথে সংযুক্ত হয় সেগুলোই হলো আকর্ষণ তন্তু।
খ) মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি হতে দুটি, দুটি হতে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে কোষবিভাজন নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে অস্বাভাবিক হারে বিভাজন হতে থাকবে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস কোষ বিভাজন টিউমার সৃষ্টি করতে পারে। একইরূপে জরায়ুর পেশিকোষের মাইটোসিস কোষবিভাজন অস্বাভাবিকভাবে বিভাজিত হতে থাকলে জরায়ুর মুখে টিউমার সৃষ্টি হয়।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অংশের কোষ বিভাজনটি মাইটোসিস কোষ বিভাজন এবং এ কোষ বিভাজনের ৪র্থ পর্যায় হলো অ্যানাফেজ ধাপ। নিচে অ্যানাফেজ ধাপটির সচিত্র ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হলো− ১. এ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে এবং এতে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
২. অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে বিকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে এরা বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পরস্পর বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে। ক্রোমোজোমের এ মেরুমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী এবং বাহুদ্বয় অনুগামী হয়।

৩. অপত্য ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের বিভিন্নতার জন্য এ সময় ক্রোমোজোমগুলোকে ইংরেজি বর্ণমালার V, L, J ও I অক্ষরের মতো দেখা যায়। এদেরকে যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাব-মেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ও টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। ৪. এ ধাপের শেষের দিকে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পন্ডিলযন্ত্রের মেরুপ্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোজোমের প্যাঁচ খুলে এরা দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
ঘ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রজাতির মধ্যে বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো−
ডিপ্লেয়ড মাতৃজনন কোষ মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনকালেই মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের পুনর্বিন্যাস ঘটে। মিয়োসিসের প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে ক্রোমোজোমের অংশের বিনিময় ঘটে। জাইগোটিন উপপর্যায়ের বাইভ্যালেন্ট গঠিত হয়। বাইভ্যালেন্টের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড একই স্থানে ভেঙে গিয়ে পরস্পর অংশ বিনিময় করে এবং ঐ স্থানে পরস্পর জোড়া লেগে X আকৃতি সৃষ্টি করে। এভাবে অংশ বিনিময়কেই ক্রসিংওভার বলে। পরবর্তী কতকগুলো পর্যায়ক্রমিক ধাপ সম্পন্ন করেই অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়। ক্রসিংওভারের সময় জিনের যে আদান-প্রদান ঘটে তার ফলে গঠিত নতুন ক্রোমোজোমে জিনের বিন্যাস পরিবর্তিত হয়। প্রকট জিনগুলো প্রকাশ পায়, প্রচ্ছন্ন জিনগুলো সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়। পরবর্তী বিভাজনের সময় এভাবে আবারও ক্রোমোজোমের অংশের বিনিময় ঘটে। ফলে নতুন জিনের বিন্যাস দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায়, এক বংশধরে যে জিনটি প্রকট ছিল তা পরবর্তী বংশধরে প্রচ্ছন্ন আকারে বা এক বংশধরের প্রচ্ছন্ন জিন পরবর্তী বংশধরে প্রকট আকারে প্রকাশ পায়।
সুতরাং উপরিউক্ত পর্যালোচনা থেকে বলা যায় যে, মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ফলে যৌন প্রজনন সম্পন্ন কোনো দুটি জীবই হুবহু এক রকম হয় না। অর্থাৎ প্রজাতির মধ্যে বৈচিত্র্য দেখা যায়। আর এই পরিবর্তিত জিন বিন্যাসই নতুন চরিত্রের সৃষ্টি করে বা চরিত্রের মধ্যে বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়।