সৃজনশীল (CQ)
১. রফিক সাহেব একজন চিকিৎসক। চিকিৎসা করার পাশাপাশি তিনি রোগীর স্বজনদের রোগ-শোকের খবরও নিতেন। হাত দিয়ে রোগীর মাথা, কপাল ও পেট টিপে রোগ নির্ণয় করে তিনি ওষুধ দিতেন। আধুনিক পদ্ধতিতে রোগনির্ণয় করতে বললেও তিনি তাঁর পদ্ধতিকেই উপযুক্ত মনে করতেন। রফিক সাহেবের ছেলে সুমন এখন বিখ্যাত চিকিৎসক। সুমন সাহেবের রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াই ভিন্ন। আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, এক্স-রে ইত্যাদির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে তিনি চিকিৎসা করেন। আধুনিক ধ্যান-ধারণা এবং গবেষণাই বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক গতি এনে দিয়েছে।
- ক) 'চাঁদোয়া' অর্থ কী?১
- খ) প্রবন্ধটির নাম 'আকাশ' রাখার কারণ ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকের রফিক সাহেবের মধ্যে 'আকাশ' শীর্ষক প্রবন্ধের কোন দিকটি উঠে এসেছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) 'আধুনিক ধ্যান-ধারণা এবং গবেষণাই বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক গতি এনে দিয়েছে'—উদ্দীপক এবং 'আকাশ' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) 'চাঁদোয়া' শব্দের অর্থ—শামিয়ানা বা কাপড়ের ছাউনি।
খ) প্রবন্ধটির নাম 'আকাশ' রাখার কারণ হলো, এতে আকাশের বৈচিত্র্য, বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিকতা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আকাশের সর্বত্র উপস্থিতি, এর রঙের পরিবর্তন, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং অতীতের ধারণার বিবর্তন এখানে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া মহাকাশযানের মাধ্যমে আকাশ নিয়ে গবেষণা, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধটি আকাশকে কেন্দ্র করেই এর প্রাকৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দিকসমূহ বিশ্লেষণ করেছে, তাই এর নাম 'আকাশ' অত্যন্ত উপযুক্ত।
গ) উদ্দীপকের রফিক সাহেবের মধ্যে 'আকাশ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানুষের পুরোনো, প্রচলিত ধারণা আঁকড়ে থাকার দিকটি উঠে এসেছে।
'আকাশ' প্রবন্ধে লেখক আবদুল্লাহ আল-মুতী বলেছেন, একসময় মানুষ মনে করত আকাশ বুঝি মাথার ওপর কঠিন কিছুর একটা বিশাল ঢাকনা। আকাশের রং, মেঘ, ঝড়-বৃষ্টি নিয়েও মানুষের ছিল নানা কল্পনা। বিজ্ঞানের অগ্রগতির আগে এসব প্রচলিত ধারণাকেই মানুষ সত্য বলে মেনে নিত। পরে বিজ্ঞান জানিয়েছে, আকাশ আসলে বায়ুর বিশাল স্তর; বায়ুমণ্ডলে নানা গ্যাসের অণু ছড়িয়ে আছে বলেই আকাশ নীল দেখায়।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবও চিকিৎসার ক্ষেত্রে পুরোনো পদ্ধতিতেই অভ্যস্ত। তিনি হাত দিয়ে রোগীর মাথা, কপাল ও পেট টিপে রোগ নির্ণয় করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় করতে বললেও তিনি নিজের পদ্ধতিকেই উপযুক্ত মনে করেন। আকাশ সম্পর্কে আগেকার মানুষ যেমন প্রচলিত ধারণাকেই সত্য বলে আঁকড়ে ছিল, রফিক সাহেবও তেমনি পুরোনো পদ্ধতিকেই আঁকড়ে আছেন। তাই রফিক সাহেবের মধ্যে 'আকাশ' প্রবন্ধে বর্ণিত বিজ্ঞানপূর্ব প্রচলিত ধারণার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ) 'আধুনিক ধ্যান-ধারণা এবং গবেষণাই বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক গতি এনে দিয়েছে'—মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ একসময় আকাশকে মনে করা হতো মানুষের মাথার ওপরে একটি বিশাল ঢাকনা। আসলে আকাশ হচ্ছে বায়ুর স্তর। এখানে প্রায় বিশটি বর্ণহীন গ্যাস মিশে আছে। আগেকার দিনে আকাশ নিয়ে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন শূন্যে বেলুন বা যন্ত্রপাতিসহ রকেট পাঠিয়ে। আজ মানুষ নিজেই মহাকাশযানে চেপে সফর করছে পৃথিবীর ওপরে বহু দূর পর্যন্ত। যেতে পারছে চাঁদে। পৃথিবীর ওপর দেড় শ-দু শ মাইল বা তারও অনেক বেশি ওপর দিয়ে ঘুরছে অসংখ্য উপগ্রহ। উপগ্রহ থেকে দিনরাত তোলা হচ্ছে পৃথিবীর ছবি। জানা যাচ্ছে, কোথায় কখন আবহাওয়া কেমন হবে। এসব কিছু সম্ভব হচ্ছে আধুনিক সব গবেষণার মাধ্যমে। উদ্দীপকের সুমন সাহেবের চিকিৎসা প্রক্রিয়া আধুনিক বিজ্ঞানের অবদানকে ধারণ করেছে। যার ফলে এখন খুব সহজেই অনেক রোগ নির্ণয় করা যাচ্ছে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হচ্ছে। সুতরাং 'আধুনিক ধ্যান-ধারণা এবং গবেষণাই বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক গতি এনে দিয়েছে'—এই মন্তব্যটি যুক্তিসংগত।
সূত্র: বাংলা ১ম পত্র (ষষ্ঠ শ্রেণি), অধ্যায় ৫, আকাশ