Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২১শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: আষাঢ়ের এক রাতে

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 21 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. বিদ্যে বোঝাই এক বাবু মশাই শখের বশে বোটে চড়লেন এবং বিদ্যার আস্ফালন দেখিয়ে নদীতে কেন জোয়ার-ভাটা হয়, কেন সাগরের পানি লবণাক্ত হয়, আবার নদীর উৎস ধারা কোথায়- এ রকম নানা প্রশ্ন করে মাঝিকে। মাঝি এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় তার জীবন আট আনা ফাঁকি বলে মন্তব্য করে। শুধু তা-ই নয়, বিদ্যে বোঝাই বাবু সূর্য গ্রহণ কেন হয়, চন্দ্র গ্রহণ কেন হয়, আকাশের চূড়া নীল হয় কেন—এসব প্রশ্ন তুলে মাঝিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে এবং মাঝি উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তার বারো আনা জীবন যে নিরর্থক তা সগর্বে উচ্চারণ করে। কিন্তু খানিক বাদে ঝড় উঠলে বিদ্যে বোঝাই বাবু অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ তিনি সাঁতার জানেন না। আর মাঝি তখন বলে ওঠে, তোমার জীবন তো দেখছি ষোলো আনাই বৃথা। কারণ বাঁচলেই তো জীবনের হিসাব।
  1. ক) আবুর বয়স কত?১
  2. খ) বড় ভাইয়েরা নৌকায় ফিরে এসে অবাক হয় কেন? ব্যাখা কর।২
  3. গ) উদ্দীপকের বিদ্যে বোঝাই বাবুর আস্ফালনে 'আষাঢ়ের এক রাতে' গল্পের ফুটে ওঠা দিকটি ব্যাখ্যা কর।৩
  4. ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকে 'আষাঢ়ের এক রাতে' গল্পের মূল চেতনাই ভাস্বর হয়ে ওঠে—তোমার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) আবুর বয়স দশ বছর।
খ) আবু একটা বড় বোয়াল মাছ ধরেছে, এ জন্য বড় ভাইয়েরা নৌকায় ফিরে এসে অবাক হয়। আবুর অনেক দিনের শখ মৌরিবিলে বড় ভাইদের সাথে মাছ ধরতে যাবে। কিন্তু ছোট বলে তাকে কেউ সাথে নেয় না। একদিন সে নৌকার খোলে লুকিয়ে ভাইদের সাথে মৌরিবিলে যায়। তার ভাইয়েরা জাল পেতে মাছ ধরে, আর আবু তেলাপোকার টোপ দেওয়া বড়শিতে কিষান তিনুর সাহায্যে টেনে তুলে প্রায় তার সমান বড় একটা বোয়াল মাছ ধরে। তার ভাইয়েরা নৌকায় ফিরে এসে এত বড় বোয়াল মাছ দেখে অবাক হয়।
গ) উদ্দীপকের বিদ্যে বোঝাই বাবুর আস্ফালন আর 'আষাঢ়ের এক রাতে' গল্পের বড় ভাইদের কাজকর্ম একই পর্যায়ের। অহঙ্কার, দম্ভ, অপরের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কখনই ভালো নয়। ছোট, গরিব, মূর্খ ইত্যাদি শ্রেণির মানুষও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দর্জির তৈরি পোশাক এবং মুচিদের তৈরি জুতা স্যান্ডেল আমরা সর্বদা ব্যবহার করি। তাই কোনো ব্যক্তিকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা অনুচিত। উদ্দীপকের বিদ্যে বোঝাই বাবু একদিন নৌকায় চড়ে মাঝির প্রতি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ শুরু করে। নদীতে জোয়ার কেন হয়, সাগরের পানি লবণাক্ত কেন, সূর্য গ্রহণ কেন হয় ইত্যাদি প্রশ্ন করে মাঝিকে বিপদে ফেলে। এসব প্রশ্নের উত্তর মাঝি দিতে পারে না বলে বাবু সাহেব বিদ্যের আস্ফালন করেন। 'আষাঢ়ের এক রাতে' গল্পের বড় ভাইয়েরাও আবুকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও বকাঝকা করে। সে ছোট মানুষ মাছ ধরতে পারবে না, আবুর বড়শি ও টোপ নিয়েও তারা বিদ্রূপ করে। আবুও যে মাছ ধরতে সক্ষম, বড় ভাইয়েরা তা মানতে নারাজ। আর এই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ উদ্দীপকের বিদ্যে বোঝাই বাবুর আস্ফালনেও প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকে 'আষাঢ়ের এক রাতে' গল্পের মূল চেতনাই ভাস্বর হয়ে ওঠে। সমাজে যাদেরকে অবহেলা করা হয়, তারাও সমাজে মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। শ্রমিক, মাঝি, কুলি, চাষি, ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবাইকে নিয়ে সমাজ অগ্রসর হয়। তাই যারা ছোট, তাদেরকেও মূল্যায়ন করতে হবে। উদ্দীপকের বিদ্যে বোঝাই বাবু নৌকার মাঝিকে অযোগ্য ও অবহেলা করে। মাঝিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে সে উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে পণ্ডিত সাহেব জানান, তার জীবনের বারো আনাই বৃথা। কিন্তু যখন নদীতে ঝড় ওঠে, তখন পণ্ডিত বিপদে পড়েন, কারণ তিনি সাঁতার জানেন না। তখন মাঝি তাকে লক্ষ করে বলে, আপনার জীবনের ষোলো আনাই তো বৃথা। 'আষাঢ়ের এক রাতে' গল্পের আবু বয়সে ছোট বলে তার বড় ভাইয়েরা তাকে মাছ ধরতে নেয় না। কিন্তু দেখা যায় সাজেদ, বিপুল ও বায়েজিদ জাল পেতে মাছ না পেলেও আবু ঠিকই বড় একটি বোয়াল মাছ ধরেছে। বড় ভাইদের জালে পুঁটি মাছ পড়লেও আবুর বড়শিতে ঠিকই বড় মাছ ধরা পড়ে। সে আত্মবিশ্বাসের সাথে তার মাছ ধরার কথা জানায়। উদ্দীপক ও গল্পে ছোট শিশু এবং শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। প্রয়োজন বা কাজের সময় যে অবদান রাখতে পারে, সে-ই আসলে যোগ্য ব্যক্তি। আমরা উদ্দীপকের মাঝি এবং গল্পের আবু চরিত্রের মাধ্যমে তা লক্ষ করি। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও গল্পের মূল চেতনা উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। সূত্র: বাংলা ১ম পত্র (ষষ্ঠ শ্রেণি) — আনন্দপাঠ, আষাঢ়ের এক রাতে, আষাঢ়ের এক রাতে (আনন্দপাঠ পৃ. ১৪–১৮)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. আবুর বড়ো ভাইয়েরা মাছ ধরতে যাওয়ার সময় আবুকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চায় না কেন? খ. আবু কোন কৌশলে তার বড় ভাইদের সাথে মাছ ধরতে গিয়েছিল?
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. আবুর বড়ো ভাইয়েরা যখন মাছ ধরতে যায়, তখন তারা সাধারণত তাকে সঙ্গে নিতে চায় না। তার প্রধান কারণ হলো, আবু বয়সে অনেক ছোট, মাত্র দশ বছর। এই বয়সে বর্ষার রাতে গভীর জলাশয়ে মাছ ধরা তার জন্য বেশ বিপজ্জনক হতে পারে। বড়োদের মনে হয়, আবু গেলে সে ভয় পাবে কিংবা অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যেতে পারে। তাছাড়া, বড়োরা যখন মাছ ধরে, তখন তাদের অনেক মনোযোগ ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। তারা মনে করে, আবু গেলে হয়তো দুষ্টুমি করবে, অপ্রয়োজনীয় কথা বলবে কিংবা তাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে। তাই তারা তাকে সঙ্গে নেওয়ার পক্ষপাতী নয়। এছাড়া, মৌরিবিলে মাছ ধরতে গেলে অনেক ধরনের সরঞ্জাম ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, যা আবুর মতো ছোট ছেলের পক্ষে সামলানো কঠিন। বড়ো ভাই সাজেদ ও তার বন্ধুরা অভিজ্ঞ, তাই তারা নিজেরাই মাছ ধরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা মনে করে, আবুর উপস্থিতি তাদের জন্য শুধু বাড়তি ঝামেলা সৃষ্টি করবে। এসব কারণেই তারা তাকে কখনোই সঙ্গে নিতে চায় না। খ. আবু যখন বুঝতে পারে যে বড়ো ভাই সাজেদ ও তার বন্ধুরা তাকে সঙ্গে নিতে চাইবে না, তখন সে নিজেই এক কৌশল অবলম্বন করে। সে চুপিচুপি গিয়ে নৌকার খোলের (নৌকার নিচের অংশ যেখানে সাধারণত জিনিসপত্র রাখা হয়) মধ্যে ঢুকে লুকিয়ে পড়ে। কেউ যেন তাকে না দেখতে পায়, তাই সে সেখানে শুয়ে থাকে এবং অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ে। নৌকা যখন মাঝপথে পৌঁছে যায়, তখন বড়ো ভাই সাজেদ ও তার বন্ধুরা হারিকেনে তেল ঢালার জন্য পাটাতন সরায়। তখনই তারা আবুকে দেখতে পায় এবং চমকে ওঠে। সাজেদ প্রথমে রেগে গিয়ে তাকে বকা দেয় এবং বলে, "আজ তোকে পিটিয়ে ঠান্ডা করব।" কিন্তু পরে যখন আবু কাঁদতে কাঁদতে জানায় যে সে লুকিয়ে এসেছে কারণ সে বড়ো মাছ ধরতে চায়, তখন তারা হাসতে থাকে এবং তাকে মাফ করে দেয়। আবুর এই কৌশল সফল হয়েছিল কারণ সে খুব সতর্কতার সঙ্গে লুকিয়ে ছিল এবং আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করে রেখেছিল। এমনকি সে তার এক বন্ধুকে বলে এসেছিল, যদি কেউ খোঁজ করে তাহলে যেন বলে দেয়, সে মাছ ধরতে গেছে। এই কৌশল দেখিয়ে দেয় যে আবু কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মাছ ধরার প্রতি তার কতটা আগ্রহ!
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. আবু কীভাবে তার বড় ভাইদের সাথে মাছ ধরতে গিয়েছিল? খ. আবুর বড় ভাইয়েরা কিষান তিনুকে তাদের সঙ্গে নিয়েছিল কেন?
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. আবুর বড় ভাই সাজেদ ও তার বন্ধুরা মাছ ধরতে গেলে আবুকে সঙ্গে নেয়নি, কারণ সে ছোট ছিল। তবে আবু লুকিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যখন তারা নৌকায় উঠে, তখন আবু চুপিচুপি নৌকার খোলের নিচে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে ঘুমিয়ে যায়। মাঝপথে হারিকেনের তেল আনতে গিয়ে বড় ভাইরা আবুকে খুঁজে পায়। প্রথমে সাজেদ রেগে গেলেও পরে হাসতে হাসতে তাকে সঙ্গে রাখতে রাজি হয়। আবুর এই কৌশল ও সাহসিকতা প্রমাণ করে যে, সে মাছ ধরার ব্যাপারে কতটা আগ্রহী ছিল। শেষ পর্যন্ত সে সত্যিই বিশাল এক বোয়াল মাছ ধরে সবার প্রশংসা অর্জন করে। খ. আবুর বড় ভাই সাজেদ ও তার বন্ধুরা যখন মাছ ধরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে, তখন তারা কিষান তিনুকে সঙ্গে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনুকে নেওয়ার প্রধান কারণ ছিল তার দক্ষ মাঝি হওয়া। বর্ষাকালের রাতে, বিশেষ করে আষাঢ়ের বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায়, বিলের জলে নৌকা চালানো সহজ কাজ নয়। স্রোতের টান, বাতাসের গতি এবং পানির গভীরতা বুঝে নৌকা চালানোর জন্য একজন অভিজ্ঞ মাঝির প্রয়োজন হয়। তিনু এই ধরনের পরিস্থিতিতে দক্ষতার সঙ্গে নৌকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, যা সাজেদ ও তার বন্ধুদের জন্য নিরাপদ এবং সুবিধাজনক ছিল। তাছাড়া, মাছ ধরার সময় নৌকাকে স্থির রাখা, দিক ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায়ও তিনু সাহায্য করতে পারত। মাছ ধরার জন্য জাল ফেলা, জাল টেনে তোলা এবং দরকার হলে বৈঠা চালানো—এসব কাজেও তিনু পারদর্শী ছিল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, গভীর পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে যদি কোনো বিপদ ঘটে, তবে তিনু তা দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারবে বলে সাজেদরা বিশ্বাস করত। পরবর্তীতে দেখা যায়, তিনুর উপস্থিতি আসলেই দলের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। যখন আবু বিশাল বোয়াল মাছ ধরে ফেলে এবং সেটিকে নৌকায় তুলতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন তিনুই এগিয়ে এসে দড়ি ধরে সাহায্য করে। তার অভিজ্ঞতা ও শারীরিক শক্তির কারণে তারা সফলভাবে বোয়াল মাছটি নৌকায় তুলতে পারে। এই কারণে বোঝা যায়, তিনুকে সঙ্গে নেওয়া সাজেদ ও তার বন্ধুদের জন্য খুবই কার্যকর সিদ্ধান্ত ছিল, যা তাদের মাছ ধরার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।