Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২৩শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: আদুভাই

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 23 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. নওশাদ পাঁচ বছর যাবৎ ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। লেখাপড়ায় খারাপ হলেও খেলাধুলায় তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার কারণেই তাদের স্কুল প্রতিবছর ফুটবলে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়। এ জন্য এ যাবৎ তার প্রমোশন পেতে তেমন কষ্ট পেতে হয়নি। কিন্তু ১০ম শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষক তাকে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করতে নারাজ, বরং তাকে টিসি নিয়ে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
  1. ক) আদুভাই কোন শ্রেণিতে পড়তেন?১
  2. খ) 'বাবার শেষ ইচ্ছামতোই ও-ব্যবস্থা করা হয়েছে'—উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।২
  3. গ) উদ্ধৃতাংশের নওশাদের সাথে তোমার পঠিত আদুভাইয়ের কী সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়—যুক্তিসহ উপস্থাপন কর।৩
  4. ঘ) নওশাদকে প্রধান শিক্ষক বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) আদুভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়তেন।
খ) 'আদু ভাই' গল্পে আদু ভাইয়ের ছেলে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কবরে খোদাই করে লেখা সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটি করেছে। আদু ভাই মৃত্যুর আগে সপ্তম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কবরে খোদাই করে লেখা হয়— Here sleeps Adu Mia who was promoted from Class VII to Class VIII. আদু ভাইয়ের ছেলে তার বাবার সেই ইচ্ছার বাস্তবায়নের কথাই বলেছিল বাবার বন্ধু 'আদু ভাই' গল্পের লেখককে।
গ) উদ্ধৃতাংশের নওশাদের সঙ্গে 'আদুভাই' গল্পের প্রধান চরিত্র আদুভাইয়ের পরীক্ষায় পাস না করতে পারার মিল এবং শিক্ষকের প্রমোশন দেওয়ার বিষয়ে অমিল লক্ষ করা যায়। উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত নওশাদ দশম শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনায় সে তেমন ভালো নয় কিন্তু তবুও সে এত বছর প্রমোশন পেয়ে আসছে একটি বিশেষ প্রতিভার কারণে। ফুটবল খেলায় সে খুব পারদর্শী। তার কল্যাণেই তার স্কুল প্রতিবছর ফুটবলে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়। এ প্রতিভার কারণেই শিক্ষকগণ তাকে এত দিন প্রমোশন দিয়েছেন। আদুভাই কোনো বিশেষ প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেননি। তাই শিক্ষকরা, এত দিন তাকে প্রমোশন দেননি। স্কুলের সাপ্তাহিক সভায় তিনি স্বরচিত কবিতা পাঠ করলেও তা শুনে উপস্থিত সবাই হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। তবে ছাত্র খারাপ হলেও ব্যক্তি আদুভাই মানুষ হিসেবে অনেক ভালো। কখনও তিনি কোনো শিক্ষক কিংবা কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেননি। এ বিষয়গুলো ছাড়াও আরো কিছু বিষয়ে নওশাদ ও আদুভাইয়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়।
ঘ) নওশাদ ফুটবল খেলায় পারদর্শী বলে প্রধান শিক্ষক তাকে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলেন। পৃথিবীতে কিছু লোক কিছু বিশেষ প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। ঐ বিশেষ প্রতিভার স্ফুরণ ঘটলেই সে হয় পরিচিত এবং মূল্যবান। নওশাদ তেমনই এক প্রতিভা। পড়াশোনায় সে মনোযোগী না হলেও তার মধ্যে রয়েছে অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা। ফুটবল খেলায় স্কুলে তার জুড়ি নেই। যে কারণে জাতীয় পর্যায়ের স্কুল ফুটবলে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে প্রতিবছর তার স্কুল টিমকে সে চ্যাম্পিয়ন করেছে। নওশাদের অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্যে মুগ্ধ শিক্ষক, ছাত্র, এলাকাবাসী তার ফুটবল প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে এত দিন শিক্ষকগণ তাকে প্রমোশন দিয়েছেন। কিন্তু এবার দশম শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষায় সে যখন আবার ফেল করে, তখন প্রধান শিক্ষক তাকে প্রমোশন দিতে রাজি হননি। নওশাদের প্রতিভা লক্ষ করে প্রধান শিক্ষক তাকে টিসি নিয়ে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে সে ফুটবল চর্চার সুযোগ পাবে, একজন ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। তার যে প্রতিভা আছে, তা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পাবে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. কীসের জন্য আদুভাইকে দুটি পুরষ্কার দেওয়া হয়েছিল? খ. শিক্ষকেরাও আদুভাইকে আদুভাই বলে ডাকতেন কেন?
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. আদুভাইকে মূলত দুটি বিশেষ গুণের জন্য পুরস্কৃত করা হতো। প্রথমত, সে ছিল অত্যন্ত নিয়মিত ছাত্র। ঝড়-বৃষ্টি, প্রতিকূল আবহাওয়া বা শারীরিক অসুস্থতা কোনো কিছুই তাকে স্কুলে আসা থেকে বিরত রাখতে পারত না। শহরতলীর এক পাড়াগাঁ থেকে প্রতিদিন পাঁচ মাইল পথ হেঁটে সে স্কুলে আসত। এমনকি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনেও যখন শিক্ষকরা পর্যন্ত ছাত্রদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল, তখনও আদুভাইকে স্কুলে উপস্থিত থাকতে দেখা যেত। দ্বিতীয়ত, আদুভাই ছিল অত্যন্ত সচ্চরিত্রের অধিকারী। তার মধ্যে কোনো নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য ছিল না। সে কখনো মিথ্যা কথা বলত না, কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করত না এবং সর্বদা শান্ত ও ভদ্র আচরণ করত। তার এই সচ্চরিত্রের কারণেই সে শিক্ষকদের কাছেও অত্যন্ত প্রিয় ছিল। এই দুটি বিশেষ গুণের কারণেই আদুভাই প্রতি বছর স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিয়মিতভাবে পুরস্কৃত হত। খ. শিক্ষকদের আদুভাইকে 'আদুভাই' বলে ডাকার পেছনের কারণটি বেশ মজার এবং একই সাথে কিছুটা দুঃখজনক। আদুভাই ছিল সেই ছাত্র, যে বছরের পর বছর ধরে একই শ্রেণিতে, অর্থাৎ সপ্তম শ্রেণিতে আটকে ছিল। তার এই দীর্ঘ সময় ধরে একই শ্রেণিতে থাকার কারণে সে যেন সেই শ্রেণির স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকদের অনেকে আদুভাইকে 'আদুভাই' বলে ডাকতেন, কারণ তাঁরাও এককালে আদুভাইয়ের সমপাঠী ছিলেন। গল্পে বলা হয়েছে, শিক্ষকরাও এককালে আদুভাইয়ের সহপাঠী ছিলেন এবং সবাই নাকি ক্লাস সেভেনেই আদুভাইয়ের সঙ্গে পড়েছেন। এই তথ্যটি থেকে বোঝা যায়, আদুভাই শুধু ছাত্রদের মধ্যেই নয়, শিক্ষকদের মধ্যেও একটি পরিচিত এবং স্থায়ী নাম ছিল। আদুভাইয়ের এই দীর্ঘ সময় ধরে একই শ্রেণিতে থাকার বিষয়টি তার সহপাঠী এবং শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের হাস্যরস সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু আদুভাই নিজে এই বিষয়টিকে সহজভাবে নিয়েছিল। সে কখনো হতাশ হয়নি এবং সবসময় পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিল। অর্থাৎ শিক্ষকেরা নিজেরাই একসময় ক্লাস সেভেনে তাঁর সহপাঠী ছিলেন বলে তাঁরাও তাঁকে 'আদুভাই' বলে ডাকতেন। সূত্র: আনন্দপাঠ, ষষ্ঠ শ্রেণি (NCTB, ২০২৫), পৃ. ২৭–২৮
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. 'মৌলবি সাব আদুভাইয়ের নাম শুনে জ্বলে উঠলেন।'—কেন? খ. আদুভাইয়ের অপরাধীর ন্যায় উদ্বেগ কম্পিত হওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. মৌলবি সাব আদুভাইয়ের নাম শুনে জ্বলে ওঠার কারণ ছিল আদুভাইয়ের পরীক্ষার খাতায় অদ্ভুত সব কা-। আদুভাই ফারসি পরীক্ষায় খাতায় কোনো ফারসি হরফ না লিখে বাংলায় নানা কথা লিখেছিল। আদুভাইয়ের এই 'বেয়াদবি' দেখে মৌলবি সাব খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। গল্পের বর্ণনাকারী যখন আদুভাইয়ের প্রমোশনের জন্য মৌলবি সাবের কাছে সুপারিশ করতে যায়, তখন মৌলবি সাব আদুভাইয়ের নাম শুনেই রেগে যান। তিনি আদুভাইকে 'বেতমিজ' ও 'খোদার না-ফরমান বান্দা' বলে অভিহিত করেন। আদুভাইয়ের পরীক্ষার খাতা খুলে দেখা যায়, সে ফারসি ভাষার বদলে বাংলায় অনেক কিছু লিখেছিল। আদুভাইয়ের এই আচরণে মৌলবি সাব এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি বলেছিলেন—নিতান্ত ভালো মানুষ বলেই তিনটে নম্বর দিয়েছেন, অন্য কেউ হলে রাসটিকেটের সুপারিশ করত। খ. আদুভাই কখনো প্রমোশনের জন্য কারো কাছে কিছু বলেননি; প্রমোশনকে যথাসময়ের আগে এগিয়ে আনা তিনি পছন্দ করতেন না। অথচ এবার তাঁকেই গল্পকথকের কাছে প্রমোশনের জন্য সুপারিশের অনুরোধ করতে হচ্ছিল—তাই তিনি অপরাধীর মতো উদ্‌বেগ-কম্পিত ও সংকোচ-জড়িত হয়ে কথা বলছিলেন। এর পেছনে ছিল একটি বিশেষ কারণ: আদুভাইয়ের ছেলে সেবার ক্লাস সেভেনে প্রমোশন পেয়েছে। ছেলের সঙ্গে এক শ্রেণিতে পড়ায় আদুভাইয়ের নিজের আপত্তি ছিল না, কিন্তু তাঁর স্ত্রীর তাতে ঘোরতর আপত্তি ছিল। ফলে হয় এবার প্রমোশন পেতে হবে, নয়তো পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হবে। আর পড়াশোনা ছেড়ে দিলে আদুভাই বাঁচবেন কী নিয়ে? এই সংকটই তাঁকে এমন বিচলিত করে তুলেছিল।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।