Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২৫শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: একটি সুখী গাছের গল্প

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 25 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. ১. তরুতলে বসি পান্থ শ্রান্তি করে দূর, ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর। বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙ্গে লয়, তরু তবু অকাতরে কিছু নাহি কয়। ২. পরার্থে আপন সুখ দিয়া বিসর্জন, তুমিও হও গো ধন্য তরুর মতন। জড় ভেবে তাদের করিও না ভুল তুলনায় বড় তারা মহত্ত্বে অতুল।
  1. ক) শেল সিলভারস্টাইনের বিভিন্ন গ্রন্থ কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে?১
  2. খ) গাছটির সবকিছু নিয়েও মানুষটি সুখী না হওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।২
  3. গ) উদ্দীপক-১-এ 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।৩
  4. ঘ) উদ্দীপক-২-এর চেতনাই গল্পকারের অন্বিষ্ট 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের আলোকে যৌক্তিকতা যাচাই কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) শেল সিলভারস্টাইনের বিভিন্ন গ্রন্থ প্রায় ত্রিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
খ) প্রশান্তির অভাবে গাছটির সবকিছু নিয়েও মানুষটি সুখী হতে পারেনি। মানুষ ব্যক্তিস্বার্থ এবং স্বেচ্ছাচারিতার জন্য অনেক সময় বৃক্ষ নিধন করে। যেমনটি করেছে পঠিত গল্পের ছেলেটি। সে নিজের অভাব পূরণের জন্য গাছটির আম, ডালপালা, কাণ্ড সবকিছু গ্রহণ করে। কিন্তু এগুলো তাকে শান্তি দিতে পারে না। কারণ বৃক্ষের ছায়া বা সবুজ প্রকৃতি মানুষের প্রশান্তির অন্যতম উৎস। তাই মানসিক প্রশান্তির অভাবে গাছটির সবকিছু নিয়েও মানুষটি সুখী হতে পারেনি।
গ) উদ্দীপক-১-এ 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের বৃক্ষের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ বৃক্ষ। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য মহান স্রষ্টা অগণিত বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন। এ সকল বৃক্ষ থেকে আমরা অক্সিজেন, ছায়া, ফল-মূল, কাঠ-বাকল, পাতা, শিকড় ইত্যাদি গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু মানুষ এতই অকৃতজ্ঞ ও নিষ্ঠুর যে সে বৃক্ষের প্রতি ভালোভাবে যত্ন নেয় না। উদ্দীপকের ১ নং কবিতাংশে অকৃতজ্ঞ পথিকের পরিচয় পাওয়া যায়। সে তরুতলে বসে শ্রান্তি ও কষ্ট দূর করে, আবার ফল খেয়ে প্রচুর আনন্দও পায়। কিন্তু বিদায়ের সময় এই পথিকই আবার গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে যায়। পঠিত গল্পেও দেখা যায়, ছোট ছেলেটি আমগাছটিকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু ভালোবাসলেও সে বৃক্ষের কাছে নিজের অভাব তুলে ধরে। বৃক্ষটি তার আম, ডালপালা, কাণ্ড দিয়ে মানুষটির উপকার করে সুখ লাভ করে। লোকটি শুধু নিজের স্বার্থের কথাই চিন্তা করে বৃক্ষটিকে নিঃস্ব করেছে। আর এই অকৃতজ্ঞতার দিকটি উদ্দীপক ১-এ প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপক-২-এর চেতনাই 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের লেখকের অন্বিষ্ট। বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু এবং অমূল্য সম্পদ। বৃক্ষ মানুষকে অক্সিজেন দান করে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। বৃক্ষের ছায়া মানুষকে প্রশান্তি দেয়। তাই বৃক্ষের মতো আমাদের মানবসেবায় জীবন উৎসর্গ করা উচিত। উদ্দীপকের ২ নং কবিতাংশে মানুষকে বৃক্ষের মতো হতে বলা হয়েছে। বৃক্ষ তার ফল-ফুল, অক্সিজেন, কাঠ, লতাপাতা দিয়ে মানুষের সেবা করে। তাই মানুষের উচিত বৃক্ষকে জড় না ভেবে তাদের মহত্ত্বকে ধারণ করা। 'একটি সুখী গাছের গল্প', গল্পে মানবসেবায় বৃক্ষের অনন্য অবদান দেখানো হয়েছে। বৃক্ষের আম, ডালপালা, কাণ্ড ইত্যাদি নিলেও গাছটি মানুষটির প্রতি খুবই খুশি। কারণ আমগাছটি তার সব কিছু দিয়ে সেবা করে পরম সুখ লাভ করে। পরে ছেলেটি সেই কাটা গাছের কাছে এসেই প্রশান্তি খুঁজে পায়। উপরের আলোচনায় দেখা যায়, ২ নং উদ্দীপক এবং পঠিত গল্পে মানবজীবনে বৃক্ষের অবদান ফুটে উঠেছে। মানুষের উচিত বৃক্ষের মতো, উদার, পরোপকারী এবং সেবাপরায়ণ হওয়া। আর বৃক্ষের প্রতি যত্ন এবং তার থেকে শিক্ষা নিলেই আমাদের পরিবেশ আরও সুন্দর ও শান্তিময় হয়ে উঠবে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. ছোট্ট ছেলেটির সাথে আমগাছের সম্পর্ক কেমন ছিল? খ. 'একটি সুখী গাছের গল্প'-এ আমগাছের পরার্থপরতার বর্ণনা দাও।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. ছোট্ট ছেলেটির সাথে আমগাছের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। কোনো এক আমগাছ একটি ছোট্ট ছেলেকে খুব ভালোবাসত। প্রতিদিন সেই ছেলেটি এসে গাছটির সব ঝরাপাতা কুড়িয়ে তাই দিয়ে মুকুট বানিয়ে বনের রাজা সাজতো। কখনো বা গাছটার কাণ্ড বেয়ে তরতর করে ওপরে উঠে ডাল ধরে দোল খেতো, আর আম খেতো। মাঝে মাঝে তারা লুকোচুরি খেলত। তারপর, এইসব করে ক্লান্ত হয়ে গেলে ছেলেটা পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ত গাছটার ছায়ায়। ছেলেটাও গাছটাকে ভালোবাসত খুব। গাছটা এতে সুখী ছিল। খ. 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পে আমগাছের পরার্থে জীবন উৎসর্গ করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পে দেখা যায়, একটি ছেলের সাথে আমগাছের বন্ধুত্ব হয়। ছেলেটি যখন ছোট্ট ছিল তখন সে আমগাছটির সাথে খেলত। গাছটির ঝরাপাতা কুড়িয়ে মুকুট বানিয়ে রাজা সাজতো। কখনো কাণ্ড বেয়ে তরতর করে ওপরে উঠে দোল খেতো আর আম খেতো। ক্লান্ত হলে গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ত। গাছটির কাছে ছেলেটি যতক্ষণ থাকতো ছায়া দিয়ে ছেলেটাকে আগলে রাখতো গাছটি। এতে গাছের খুব সুখ অনুভূত হতো। জীবনের চক্রাবর্তে ছেলেটি এবং গাছটি উভয়েরই বয়স বাড়তে থাকে। ছেলেটির জীবনে প্রয়োজন বাড়তে থাকে। একদিন গাছের কাছে গেলে গাছ খুব খুশি হয়। ছেলেটি গাছটির কাছে টাকার সমস্যার কথা বললে তার অভাব মিটাতে নিজের আম দিয়ে দেয় বিক্রির জন্য। এভাবে জীবনের নানা পর্যায়ে ছেলেটির ঘর নির্মাণের জন্য নিজের ডালপালা, নৌকা বানানোর জন্য নিজের কাণ্ড গাছটি দিয়ে দেয় ছেলেটিকে। মূলত গল্পটি একটি রূপকাশ্রয়ী গল্প। প্রকৃতিতে গাছপালা মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানাভাবে উপকার করে থাকে। মানুষের উপকারে গাছ নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে। একটি আমগাছের গল্পের মাধ্যমে এখানে গাছের পরার্থপরতার উদাহরণ অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. 'তোর সুখ দেখে আমি সুখ পাই' ব্যাখ্যা কর। খ. 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পে ছেলেটি সারাজীবন গাছের যে উপকারিতা গ্রহণ করে তা সর্বজনীন বিশ্লেষণ কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে আমগাছ একথা বলেছিল। 'একটি সুখী গাছের গল্প' একটি রূপকাশ্রয়ী গল্প। এখানে একটি ছেলে ও একটি আমগাছের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চিত্রায়িত হয়েছে। উভয়েই পরস্পরকে ভালোবাসত। ছেলেটি যখন ছোট ছিল তখন সে আমগাছের পাতা কুড়িয়ে মুকুট বানাত। গাছের কাণ্ড বেয়ে উঠে দোল খেত আর আম খেত। আমগাছের সাথে লুকোচুরি খেলতো। পরিশ্রান্ত হয়ে গেলে আমগাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়তো। কিন্তু ছেলেটা বড়ো হয়ে উঠলে আর আগের মতো আসত না; প্রায়ই দেখা যেত গাছটা একলা দাঁড়িয়ে আছে। তারপর একদিন ছেলেটা এলে আমগাছটি তাকে কাছে ডাকে। তার আম খেতে বলে, ছায়ায় আরাম করতে বলে। ছেলেটির সুখেই নিজের সুখ বলে প্রকাশ করে। খ. 'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের গাছের উপকারিতা পাওয়া ছেলেটির সমগ্র মানুষেরই প্রতিনিধি। আমাদের জীবনে গাছ অমূল্য সম্পদ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য উপকরণে গাছের ভূমিকা অপরিসীম। গল্পেও তা দেখানো হয়েছে। গল্পের ছেলেটি জীবনের বিভিন্ন স্তরে গাছটির উপকারিতা পেয়েছে। ছোটোবেলায় সে গাছটির ডাল ধরে ঝুলত, সে যখন একটু বড় হলো গাছের আম তার আর্থিক অভাব দূর করে, বিয়ের পর ছেলেটি ডালপালা দিয়ে ঘর বানায়, মন খারাপ হলে দূরদেশে ভেসে যাওয়ার জন্য গাছের কাণ্ড দিয়ে নৌকা বানায়। আর জীবনসায়াহ্নে গাছের গুড়িতে বিশ্রাম নেয়। রূপকার্থে গল্পে গাছের উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে। আমগাছ শুধু ছেলেটির ক্ষেত্রেই নয়, সকলের জন্যই সমান উপকারী। আমগাছ শুধু আমাদের ফলই দেয় না, এর কাণ্ড, পাতা, মূল সবই আমাদের কাজে লাগে। আমগাছের পাতা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমগাছের কাণ্ড দিয়ে ঘরের থাম, দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, নৌকা তৈরি হয়। সরু ডালপালা ও পাতা শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আমগাছের ছায়া খুবই শীতল হয় যার ছায়ায় ক্লান্তিতে আমরা বিশ্রাম নিতে পারি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আমগাছের উপকারভোগী শুধু গল্পের ছেলেটিই নয়, আমগাছের উপকারিতা সর্বজনীন।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।