Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২৭শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: অমল ও দইওয়ালা

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 27 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. কিশোর অন্তু খুবই দুরন্ত। তার পড়ালেখায় একটুও মন নেই। কিন্তু পরিবারের কড়া শাসনে প্রতিদিনই তাকে বইয়ের বোঝা কাঁধে করে স্কুলের পথে রওনা হতে হয়। পথে যেতে যেতে তার সঙ্গে বাদামওয়ালা, হাওয়াই মিঠাইওয়ালা, আইসক্রিমওয়ালার দেখা হতো। টিফিনের সময় এদের আনাগোনা থাকত বিদ্যালয়ের মাঠের পাশেই। তাই সবাই যখন টিফিন পিরিয়ডে খেলায় মেতে উঠতো, সে তখন এসব ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে নানা গল্প করত। সে এদের মতো মুক্তজীবন চায়। কল্পনায় সে দূর গ্রামের নির্জন পরিবেশ, অতুলনীয় সৌন্দর্য, উন্মুক্ত মাঠ, প্রান্তর দূরন্ত ছেলেদের খেলায় মেতে ওঠা প্রভৃতি দেখতে পেতো। বীরের বেশে পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে সে কল্পিত রাজ্যের রাজা হতো। বস্তুত, শিশুমনের কল্পনা অসীম ও অনন্ত।
  1. ক) দইওয়ালার গ্রাম কোন নদীর ধারে?১
  2. খ) দই বেচতে যে কতো সুখ সে তোমার কাছে শিখে নিলুম। দইওয়ালার এরূপ ভাবনার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।২
  3. গ) উদ্দীপকে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার কোন দিকটি প্রতিভাত হয়? উপস্থাপন কর।৩
  4. ঘ) ''শিশুমনের কল্পনা অসীম ও অনন্ত''—উদ্দীপক ও নাটিকার আলোকে বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) দইওয়ালার গ্রাম শামলী নদীর ধারে।
খ) অমলের দইওয়ালা হওয়ার কথা শুনে দইওয়ালার এরূপ ভাবনা হয়েছে। দইওয়ালা সেই পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায় শামলী নদীর ধারে বাস করে। তার সাথে পরিচয় হয় ঘরে বন্দি কিশোর অমলের সাথে। দইওয়ালার দই বেচার সুর; দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়ানো এবং মুক্ত জীবন অমলের ভালো লাগে। তাই সে বড় হয়ে দইওয়ালা হতে চায়। আর অমলের এ মূল্যবান কথা শুনে দইওয়ালা ভাবে, দই বেচাতে যে কত সুখ সে তোমার কাছে শিখে নিলুম।
গ) উদ্দীপকে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকায় শিশুদের মুক্তজীবনের প্রত্যাশার দিকটি প্রতিভাত হয়। শিশুরা স্বভাবতই দুষ্ট ও চঞ্চল প্রকৃতির। তারা স্বাধীন ও মুক্ত জীবন পছন্দ করে। বদ্ধ ঘরে থাকতে তারা পছন্দ করে না। বাইরের প্রকৃতি, জনজীবন তাদেরকে আকৃষ্ট করে। উদ্দীপকের অন্তু স্বাধীন ও মুক্তজীবন পছন্দ করে। স্কুলের ধরাবাধা নিয়ম আর ব্যাগভর্তি বই তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়। তাই সে স্কুলের মাঠের ফেরিওয়ালাদের সাথে ভাব জমায় এবং আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করে। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার অমলও দইওয়ালার মতো মুক্তজীবন ভালোবাসে। সে দইওয়ালার মতো দূর-দূরান্তে গিয়ে মধুর সুরে দই বিক্রি করতে চায়। তার কাছে বই পড়ে পণ্ডিত হওয়ার চেয়ে দইওয়ালার জীবনই ভালো। অমলের মতো উদ্দীপকের অন্তুও বন্ধ খাঁচায় না থেকে মুক্তজীবন প্রত্যাশা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পঠিত নাটিকার শিশুদের মুক্তজীবনের দিকটি প্রতিভাত হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপক ও পঠিত নাটিকার আলোকে বলা যায়, শিশুমনের আবেগ এবং কল্পনা অসীম ও অনন্ত। সাধারণত শিশুরা বেশি কল্পনা প্রবণ হয়। মনের কল্পনায় তারা বিশ্বজগৎ ঘুরে বেড়ায়। আকাশের তারা, সমুদ্রের তলদেশ কিংবা পাহাড়ের চূড়া এ সম্পর্কে জানতে চায়। তাদের কল্পনা এবং কৌতূহলের যেন শেষ নেই। উদ্দীপকের কিশোর অন্তু খুবই কল্পনাপ্রবণ এবং কৌতূহলী। স্কুলের ধরাবাঁধা জীবন, নিয়মমতো লেখা তার ভালো লাগে না। সে ফেরিওয়ালাদের মতো মুক্তজীবন পছন্দ করে এবং কল্পনা করতে ভালোবাসে। সে কল্পনায় পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে কল্পিত রাজ্যের রাজা হওয়ার আনন্দ অনুভব করে। উদ্দীপকের অন্তুর মতো পঠিত নাটিকার অমলও খুবই কল্পনাপ্রবণ এবং মুক্তজীবনের প্রত্যাশী, সে কল্পনার জগতে দইওয়ালার, পাহাড়তলা গ্রাম, শামলী নদী, লাল রাস্তা মেয়েদের পানি আনা সবকিছু দেখতে পায়। সে কল্পনা করে দইওয়ালার প্রাচীন গ্রামের খবরও বলে দেয়। উপযুক্ত বিশ্লেষণের আলোকে বলা যায়, শিশুমনের কল্পনা অসীম ও অনন্ত। বড়রা যা চিন্তা করতে পারে না; সেই কল্পনা ছোটরা ঠিকই করে। তাই আমরা নাটিকার অমল ও উদ্দীপকের অন্তুকে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে দেখি।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. অমল দইওয়ালার সাথে চলে যেতে চায় কেন? খ. অমলের প্রকৃতিপ্রেমী কিশোর মনের কল্পনা কোথায় বিচরণ করে আলোচনা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে অমল দইওয়ালার সঙ্গে চলে যেতে চায়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কবিরাজ অমলকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করে। এভাবে বন্দি অবস্থায় থাকতে তার ভালো লাগে না। দইওয়ালার হাঁক শুনে তার মন আনন্দে নেচে ওঠে। সে দইওয়ালাকে ডাক দিয়ে থামায়। দইওয়ালার মতো একস্থান থেকে অন্যস্থানে ঘুরে বেড়াতে মন চায় অমলের। তাই সে দইওয়ালার সঙ্গে যেতে চায়। খ. অমলের প্রকৃতিপ্রেমী কিশোর মনের কল্পনা বিচরণ করতে করতে ছুটে যায় পাহাড়ে, নদীতে। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকায় এক কিশোরের বন্দিত্ব জীবনের চিত্র উপস্থাপন করতে গিয়ে বিভিন্ন ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে। নাটিকায় দেখা যায়, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে অমল বাড়ির বাইরে যেতে পারে না। কবিরাজ তাকে বাইরে যেতে বারণ করেছেন। কিন্তু এই বন্দিদশা তার ভালো লাগে না। দিনের পর দিন ঘরে আবদ্ধ থেকে তার মন বাহিরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য অবলোকন করতে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। একদিন দইওয়ালার হাঁক শুনে সে দইওয়ালাকে ডেকে থামায়। জানালা দিয়ে দইওয়ালার সাথে আলাপচারিতায় মেতে ওঠে। দইওয়ালা কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে এসব শুনতে চায়। দইওয়ালার কাছে পাহাড়, নদী প্রভৃতির কথা শুনে অমলের মন খুশিতে নেচে ওঠে। কিশোর মনের কল্পনায় অমল দেখতে পায় পাহাড়ের গায়ে গরু চরার দৃশ্য এবং লাল শাড়ি পরা মেয়েদের নদী থেকে জল তুলে মাথায় কলসি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করতে করতে অমলের পিপাসার্ত মন ছুটে চলে সেই পাহাড়ে- নদীতে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. দইওয়ালার গ্রামটি কোথায়? তার বর্ণনা দাও। খ. অমলের দইওয়ালা হতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. দইওয়ালার গ্রামটি পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায় শামলী নদীর ধারে। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকাটিতে দেখা যায়, অমল নামের এক অসুস্থ কিশোর কবিরাজের নির্দেশে ঘরে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। কবিরাজের বারণে তার ঘরের বাইরে যাওয়া নিষেধ; কী অসুখ, তা সে নিজেও জানে না। কিন্তু তার কিশোর মন বিচরণ করে প্রকৃতির রাজ্যে। একদিন এক দইওয়ালার হাঁক শুনে তাকে ডেকে থামায়। দইওয়ালার কাছে শুনতে চায় তার গাঁয়ের গল্প। দইওয়ালা তাকে জানায় পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায় শামলী নদীর ধারে তাদের গাঁ। আর অমল কখনো সেখানে না গিয়েও কল্পনায় বলে দেয়—অনেক পুরোনো কালের বড়ো বড়ো গাছের তলায়, একটি লালরঙের রাস্তার ধারে সেই গ্রাম; পাহাড়ের গায়ে গরু চরে বেড়ায়, মেয়েরা নদী থেকে জল তুলে মাথায় কলসি নিয়ে যায়। দইওয়ালা অবাক হয়ে বলে, ঠিক কথা—তবে সব মেয়ে যে লাল শাড়ি পরে তা নয়। খ. দইওয়ালার মধুময় হাঁকের সুরে মোহিত হয়ে অমল দইওয়ালা হতে চেয়েছিল। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকাটিতে বর্ণিত হয়েছে একটি অসুস্থ কিশোরের কথা। অসুস্থ থাকায় কবিরাজ তাকে ঘরের বাইরে যেতে বারণ করেছেন। তাই অমল নামের কিশোরটি বন্দি অবস্থায় ঘরেই দিন কাটায়। বের না হলেও ভাবুক ছেলেটি কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করে বেড়ায় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে। একদিন দইওয়ালার হাঁক শুনে ছেলেটি তাকে ডেকে থামায়। দইওয়ালার গাঁয়ের গল্প শুনতে শুনতে সে হারিয়ে যায় তার গাঁয়ে। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি অবস্থায় থাকার ফলে দইওয়ালার হাঁক তার কাছে মন্ত্রমুগ্ধের মতো মনে হয়েছে। সে দইওয়ালাকে অনুরোধ করে তার মতো 'দই-দই-ভালো দই' এই মধুর হাঁকটি শিখিয়ে দিতে। ঘর থেকে বের হতে পারে না বলে ঘরে তার ভালো লাগে না। সে দইওয়ালার মতো দূর গ্রামগুলোতে ঘুরে ঘুরে দই বিক্রি করতে চায়। এ কারণে সে দইওয়ালার সাথে চলে যেতে চায়। সূত্র: বাংলা ১ম পত্র (ষষ্ঠ শ্রেণি) — আনন্দপাঠ, অমল ও দইওয়ালা, অমল ও দইওয়ালা (আনন্দপাঠ পৃ. ৫২–৫৪)

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।