সৃজনশীল (CQ)
১.
চিত্র-১ চিত্র-২
চিত্র-১ চিত্র-২- ক) পোড়াবাড়ি কিসের জন্য বিখ্যাত?১
- খ) আদিম মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করত কেন?২
- গ) উদ্দীপকে ১নং চিত্রটি কোন সমাজের ইঙ্গিত বহন করছে, ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) ২নং চিত্রে ইঙ্গিতকারী সমাজের উদ্ভাবক মেয়েরাই-বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) পোড়াবাড়ি (টাঙ্গাইল) চমচমের জন্য বিখ্যাত।
খ) আদিম মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করত কারণ এটি তাদের জন্য অনেক দিক থেকে সুবিধাজনক ছিল। প্রথমত, দলবদ্ধভাবে শিকার করা সহজ ছিল এবং বড় শিকার ধরতে পারা সম্ভব হতো। এছাড়া, দলবদ্ধ থাকার ফলে বন্য পশুদের থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেত। দ্বিতীয়ত, খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দলবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন ছিল। তৃতীয়ত, শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্যও দলবদ্ধ জীবন ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মহিলারা এবং পুরুষেরা একে অপরকে সাহায্য করে শিশুদের বড় করতে পারত।
গ) উদ্দীপকে ১নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে একজন আদিম মানুষ পাথরের তৈরি হাতিয়ার ছুঁড়ে শিকার করছেন। যা আদিম সমাজ বা প্রস্তরযুগ (Stone Age) এর ইঙ্গিত বহন করছে।
এই যুগে মানুষ পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করত জীবিকা নির্বাহের জন্য, বিশেষ করে শিকার ও সংগ্রহের কাজে। প্রাথমিক সময়ে মানুষ শিকার করতে এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করতে পাথর, হাড় বা কাঠের হাতিয়ার ব্যবহার করত। এই সময় পাথরের তৈরি হাতিয়ার যেমন কুঠার, বর্শার ফলা, ধারালো পাথরের ছুরি ইত্যাদি শিকার, খাবার সংগ্রহ, এবং নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হত। আদিম সমাজে শিকার ছিল মানুষের প্রধান জীবিকা, এবং তারা গোষ্ঠীভিত্তিক জীবনযাপন করত। শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের মাধ্যমে গোষ্ঠীর মধ্যে একে অপরের সাহায্য এবং সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হতো।
এছাড়া, পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করে তারা আশেপাশের পশুদের তাড়া করত, এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ছিল প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। চিত্রটি প্রমাণ করে যে, প্রস্তরযুগে মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ছাড়া প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার কৌশল অনুসরণ করত।
ঘ) উদ্দীপকে ২নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে মেয়েরা দলবেঁধে কৃষিকাজ করছে। যা উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজের পরিচয় দেয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মেয়েরাই কৃষিকাজের উদ্ভাবন করেছে, এবং এই কথাটি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। আদিম সমাজে পুরুষেরা শিকারের সন্ধানে যেত, কিন্তু মেয়েরা ফলমূল আহরণের কাজ করত এবং তাদের এই কাজ থেকেই কৃষির প্রাথমিক ধারণা জন্ম নেয়।
মেয়েরা যখন ফলমূল সংগ্রহ করতে যেত, তখন তারা কিছু বুনো শস্য যেমন গম, বার্লি, মেটে আলু, কচুর মূল ও কন্দও সংগ্রহ করত। এসব সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা খেয়াল করল, গম ও বার্লির কিছু দানা পড়ে থাকলে তা থেকে চারা গাছ গজিয়ে উঠত। এরপর, তারা বুঝতে পারল যে, বীজ ছিটিয়ে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এই পর্যায়টি কৃষিকাজের প্রথম দিক, যা 'উদ্যান চাষ' নামে পরিচিত।
মেয়েরা তাদের আশপাশের পতিত জমিতে মাটি চিরে গর্ত তৈরি করে বীজ ছিটিয়ে ফসল উৎপাদন শুরু করেছিল। তাদের কাছে পশুর চোয়ালের হাড় ছিল, যা দিয়ে তারা ফসল কাটত। তবে, তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন করত না এবং এক জায়গায় বারবার ফসল ফলানোর পরিবর্তে তারা যাযাবর জীবন যাপন করত।
এ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, মেয়েরাই কৃষিকাজের প্রথম উদ্ভাবক ছিল এবং তাদের এই প্রচেষ্টা সমাজে কৃষির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (ষষ্ঠ শ্রেণি), অধ্যায় 1, সমাজ বিকাশের স্তর: শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক এবং উদ্যানকৃষিভিত্তিক সমাজ