সৃজনশীল (CQ)
১. আশরাফ আলী তার কারখানায় পশুর চামড়া দিয়ে ব্যাগ তৈরি করেন। প্রথম বছরে ইংল্যান্ডে তার তৈরি ব্যাগ স্বল্প পরিমাণে বিক্রি হলেও তিন বছর শেষে ইউরোপের কয়েকটি দেশে তার পণ্যের ব্যাপক চাহিদা পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে তার স্ত্রী মিসেস জমিলা প্রতিদিন বাড়ির আঙ্গিনার হাঁস ও মুরগির খামার থেকে প্রায় শতাধিক ডিম বাজারে বিক্রি করেন। দুজনের যৌথ প্রচেষ্টায় তাদের সুখের সংসার।
- ক) বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার কত অংশ শহরাঞ্চলে বাস করে?১
- খ) বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয় কেন?২
- গ) মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কোন খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) আশরাফ আলী ও মিসেস জমিলার কাজের মধ্যে কোনটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।৪
উত্তর দেখুন
ক) বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করে (পাঠ্যবই রচনাকালের তথ্য)।
খ) বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয় কারণ এ দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রা এবং জনগণের আয়ের প্রধান উৎস কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং তাদের জীবিকা মূলত কৃষিকাজের সাথে সম্পৃক্ত। দেশের জলবায়ু, উর্বর মাটি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত। এই কারণে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবনে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম, যা বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে।
গ) উদ্দীপকের মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
কৃষি খাত অর্থনীতির প্রাথমিক খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে কৃষি, পশুপালন, এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। মিসেস জমিলা তাদের বাড়ির আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন করে ডিম উৎপাদন করছেন, যা কৃষি খাতের কার্যক্রমের একটি উদাহরণ।
তিনি এই খাতে কাজের মাধ্যমে পরিবারের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আয় নিশ্চিত করছেন। হাঁস-মুরগি পালন এবং ডিম উৎপাদন সরাসরি কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি খাদ্য উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে অবদান রাখে।
এ ধরনের কাজ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং স্থানীয় চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি অর্থনীতির অন্যান্য খাতের (যেমন প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন) জন্য কাঁচামাল সরবরাহের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
অতএব, মিসেস জমিলার কাজ কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
ঘ) আশরাফ আলীর খাতটি শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত। ফলে আশরাফ আলী ও মিসেস জমিলার কাজের মধ্যে আশরাফ আলীর কাজ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে মনে করি।
আমার যুক্তি:
১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: আশরাফ আলী পশুর চামড়া থেকে ব্যাগ তৈরি করে যা শিল্প খাতের একটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। এটি কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করে। ফলে দেশের শিল্প খাত শক্তিশালী হয়।
২. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: আশরাফ আলীর ব্যাগ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক, যা অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্প খাতের ব্যবসা পরিচালনার জন্য কারখানায় কর্মী নিয়োগ করতে হয়। এটি দেশের বেকারত্ব হ্রাসে সাহায্য করে।
৪. অর্থনৈতিক ভ্যালু চেইন বৃদ্ধি: চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত ব্যাগ উচ্চ মূল্যের পণ্য, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করে। এটি অর্থনীতির ভ্যালু চেইন বৃদ্ধি করে।
৫. টেকসই উন্নয়ন: শিল্প খাতে কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
মিসেস জমিলার কৃষি কার্যক্রম স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র পরিসরে সীমাবদ্ধ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখে না। তবে কৃষি ও শিল্প উভয়ই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব।