সৃজনশীল (CQ)
১. বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে পদার্থসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু পদার্থ কঠিন, দেখতে চকচকে, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয়। আবার কিছু কিছু পদার্থের এসব বৈশিষ্ট্য কিছুই নেই।
- ক) স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?১
- খ) অধাতুসমূহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী কী?২
- গ) উদ্দীপকের ১ম জাতের পদার্থসমূহের তাপ পরিবাহিতা কি সমান? উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উদ্দীপকের পদার্থসমূহের গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে তাকে ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
খ) অধাতুসমূহের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ—
i. অধাতুসমূহ চকচকে নয়।
ii. অধাতুসমূহ প্রধানত বিদ্যুৎ ও তাপ অপরিবাহী।
iii. অধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয় না।
iv. এগুলোকে পিটিয়ে পাতলা পাত ও সরু তারে পরিণত করা যায় না।
গ) উদ্দীপকের ১ম জাতের পদার্থসমূহ ধাতু, এদের তাপ পরিবাহিতা সমান নয়।
কোনো পদার্থের যে ধর্মের উপর তাপ পরিবহনের হার নির্ভর করে তাকে তাপ পরিবাহিতা বলে। বিভিন্ন পদার্থের তাপ পরিবহনের ক্ষমতা বিভিন্ন। কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ দ্রুত পরিবাহিত হয়, আবার কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ ধীরে ধীরে পরিবাহিত হয়। যেমন- তামা, লোহা ইত্যাদি নিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে, তামার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত এবং লোহার মধ্যে কম তাপ পরিবাহিত হবে।
অতএব, দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের ১ম জাতের পদার্থ অর্থাৎ ধাতুসমূহের তাপ পরিবাহিতা সমান নয়।
ঘ) উদ্দীপকের পদার্থসমূহ হচ্ছে ধাতু ও অধাতু যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক পদার্থ ব্যবহার করি। এদের মধ্যে কিছু ধাতু, আবার কিছু অধাতু। আমাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত পাত্র সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি। এর কারণ এ ধাতু তাপ সুপরিবাহী। তাই পাত্রে তাপ দিলে তা দ্রুত পাত্রের ভেতরে খাদ্যদ্রব্যে সঞ্চালিত হয় ফলে তাড়াতাড়ি রান্না হয়। এতে সময় ও তাপশক্তির অপচয় কম হয়।
আবার, সসপ্যান, প্রেসার কুকার, ইলেকট্রিক ইস্ত্রি, ইলেকট্রিক কেটলির হাতল অধাতু দিয়ে তৈরি। কারণ অধাতু তাপ কুপরিবাহী। তাই পাত্র গরম হলেও হাতলে তা পরিবাহিত হতে পারে না। ফলে হাতল ঠাণ্ডা থাকে। হাতল ধরে কাজ করতে কোনো অসুবিধা হয় না। তাই ধাতু ও অধাতু পদার্থসমূহের গুরুত্ব অপরিসীম।
সূত্র: বিজ্ঞান (ষষ্ঠ শ্রেণি), সপ্তম অধ্যায়: পদার্থের বৈশিষ্ট্য এবং বাহ্যিক প্রভাব, ধাতু ও অধাতু