সৃজনশীল (CQ)
১. হেমন্তের এক পড়ন্ত বিকেলে এক বাউল নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন। এক পাশে নদী। নদীতে ভেসে চলেছে রং-বেরঙের পালতোলা নৌকা। ঝাঁকে ঝাঁকে নানা রকমের পাখি উড়ছে। কোনোটি সাদা, কোনোটি কালো। আর এক পাশে ধানখেত। যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। এমন মোহনীয় পরিবেশে বাউল তাঁর একতারায় সুর তোলে— নানান বরণ গাভীরে ভাই একই বরণ দুধ, জগত ভরমিয়া দেখলাম একই মায়ের পুত।
- ক) নীল আকাশে রং কুড়িয়ে বেড়ায় কারা?১
- খ) 'গড়বে নতুন একটি বাগান'—কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকের বর্ণনায় 'মেলা' কবিতার যে বিষয়বস্তুর মিল পাওয়া যায় তার বর্ণনা দাও।৩
- ঘ) 'বাউলের এই গানের মর্মকথাই তো মেলা কবিতার মূলভাব'। যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দাও।৪
উত্তর দেখুন
ক) ভাইরা মিলে, বোনরা মিলে নীল আকাশে রং কুড়িয়ে বেড়ায়।
খ) 'গড়বে নতুন একটি বাগান'—বলতে কবি এক সুন্দর, সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখানে 'বাগান' রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। নতুন প্রজন্ম পারস্পরিক বন্ধন, মানবিকতা ও আশার আলোয় একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করবে, যেখানে সবাই মিলেমিশে বাস করবে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মানুষ একটি সুসমন্বিত বিশ্ব গড়ে তুলতে পারে, যেখানে সবার স্বপ্ন ও সুর একসূত্রে মিলবে।
গ) উদ্দীপকের বর্ণনায় 'মেলা' কবিতার মূল ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়, যা প্রকৃতির সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য এবং সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
উদ্দীপকের বর্ণনায় বাউল নদীর পাড় দিয়ে হাঁটছেন, চারপাশে রঙিন পালতোলা নৌকা, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, সবুজ ধানখেত—সব মিলিয়ে এক মোহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই দৃশ্য 'মেলা' কবিতার বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন সুরের এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কবিতায় যেমন ফুল, পাখি, আকাশ, সমুদ্রের ঢেউ, আলো ও ভালোবাসার মেলার কথা বলা হয়েছে, তেমনি উদ্দীপকের দৃশ্যেও প্রকৃতির রঙ-বেরঙের অনুপম সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
এছাড়া, বাউলের গানের মূলভাব ও 'মেলা' কবিতার অন্তর্নিহিত বার্তায় মিল রয়েছে। বাউলের গানে বলা হয়েছে, গরুর রঙ আলাদা হলেও দুধের রঙ এক—ঠিক তেমনই পৃথিবীতে মানুষের চেহারা-রঙ ভিন্ন হলেও সবাই একই মানবজাতির অংশ। 'মেলা' কবিতাতেও এই ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের বৈচিত্র্যের মাঝে একতার সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে।
সুতরাং, উদ্দীপকের বর্ণনায় 'মেলা' কবিতার প্রকৃতির রঙিন মেলা ও বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের ভাবনার প্রতিফলন পাওয়া যায়।
ঘ) 'বাউলের এই গানের মর্মকথাই তো মেলা কবিতার মূলভাব'—উক্তিটি পুরোপুরি যৌক্তিক। কারণ উভয়ই বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের কথা বলে।
বাউল গানে বলা হয়েছে—'নানান বরণ গাভীরে ভাই, একই বরণ দুধ, জগত ভরমিয়া দেখলাম, একই মায়ের পুত।' অর্থাৎ গরুর গায়ের রঙ যেমন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দুধের রঙ সব সময় এক, তেমনি পৃথিবীর মানুষ চেহারা, ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে আলাদা হলেও তারা সবাই একই মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত।
'মেলা' কবিতাতেও একই ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে। কবি আহসান হাবীব প্রকৃতির নান্দনিক রূপের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও ঐক্যের মেলবন্ধন খুঁজে পেয়েছেন। ফুল, পাখি, আকাশ, ঢেউ, আলো-সব কিছু যেন একটি বৃহত্তর মিলনের প্রতীক।
এটি স্পষ্টতই বাউল গানের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়। কবিতায় যেমন প্রকৃতির বৈচিত্র্যের মাঝে মানুষের মিলনের কথা বলা হয়েছে, তেমনি বাউল গানের মূল বক্তব্যও একটাই-বৈচিত্র্যের মাঝেও মানুষের আত্মিক ঐক্য বিরাজমান।
সবশেষে বলা যায় যে, বাউলের গান ও 'মেলা' কবিতার মূলভাব একই—পৃথিবীতে বৈচিত্র্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব মানুষই এক অভিন্ন সত্তা। তাই বলা যায়, বাউলের এই গানের মর্মকথাই 'মেলা' কবিতার মূলভাব।