সৃজনশীল (CQ)
১. ১৯১৪ − প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
১৯২০ − সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ
১৯৩৯ − দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
১৯৪৫ − আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা
- ক) কত বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুইটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়?১
- খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ কী ধরনের কাজ করে থাকে? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকের ঘটনাপ্রবাহ কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার পরিচয় বহন করে? বর্ণনা কর।৩
- ঘ) উক্ত সংস্থার মৌলিক নীতিসমূহ আলোচনা কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) ২৫ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুইটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্যা যেমন : দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা, বেকারত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে থাকে।
গ) উদ্দীপকের ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরিচয় বহন করে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে পৃথিবীতে দুইটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রথমটি হয় ১৯১৪ সালে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এসব যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এ যুদ্ধ ছিল মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রার বিরাট বাধা। সেজন্য যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী চলছে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত হয়েছিল সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ। কিন্তু বিভিন্ন দেশের স্বার্থপরতার কারণে এ সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করেনি। ফলে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বকে গ্রাস করে। এ যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ধ্বংসলীলা দেখে বিশ্ববাসী শঙ্কিত ও হতবাক হয়ে যায়। তাদের মনে দানা বাঁধে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। আর এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন আলাপ আলোচনা করে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করে; যা উদ্দীপকের ছকে তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের ঘটনা প্রবাহ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরিচয় তুলে ধরে।
ঘ) উক্ত সংস্থার অর্থাৎ জাতিসংঘের সাতটি মৌলিক নীতি আছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো এগুলো মেনে চলার শর্তে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এ মূলনীতিগুলো হলো :
১. জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের অধিকারী হবে।
২. সকল সদস্য রাষ্ট্রকে পরিপূর্ণ বিশ্বাসের সাথে জাতিসংঘের সনদের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
৩. সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
৪. কোনো সদস্য রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করতে বা বল প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না।
৫. সদস্য নয় এমন কোনো রাষ্ট্র জাতিসংঘের মূলনীতির বিরোধিতা করলে সে বিষয়ে জাতিসংঘ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৬. কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করবে না। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি আগ্রাসী তৎপরতা চালায় তাহলে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
৭. জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী গৃহীত যেকোনো ব্যবস্থায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং জাতিসংঘ যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তাকে কোনো সাহায্য করবে না।
এসব মূলনীতির ভিত্তিতেই জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে।