সৃজনশীল (CQ)
১. বন্ধুদের নিয়ে বাগানে পায়চারি করছিল শাওন। হঠাৎ তারা লক্ষ করল গাছের ডালপালায় সবুজ পাতা পল্লবিত হয়ে উঠেছে। আমের মুকুলে গুঞ্জন করছে মৌমাছি। পাতার আড়ালে শোনা যাচ্ছে কোকিলের মায়াবী কণ্ঠ। তখন সবাই বুঝতে পারল প্রকৃতিতে ধ্বনিত হচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা।
- ক) 'ফাগুন মাস' কবিতার রচয়িতা কে?১
- খ) 'ফাগুন মাসে সবুজ আগুন জ্বলে'—'সবুজের' আগুন বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন তা বর্ণনা কর।২
- গ) উদ্দীপকের দৃশ্যপটটি 'ফাগুন মাস' কবিতার কোন অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ—ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) উদ্দীপকে 'ফাগুন মাস' কবিতার মূলভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) 'ফাগুন মাস' কবিতার রচয়িতা হুমায়ুন আজাদ।
খ) 'ফাগুন মাসে সবুজ আগুন জ্বলে'—এখানে 'সবুজ আগুন' বলতে কবি ফাগুনে প্রকৃতিতে নতুন সবুজ পাতার সমারোহকে বুঝিয়েছেন। শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়, প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে পড়ে। ফাগুন মাস এলে গাছে গাছে কচি সবুজ পাতা এত দ্রুত ও প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে মনে হয় চারদিকে যেন আগুন লেগেছে—তবে তা সবুজের আগুন। এভাবে কবি ফাগুনে প্রকৃতির নবজীবন ও প্রাণশক্তির প্রবল প্রকাশকে 'সবুজ আগুন' বলে প্রকাশ করেছেন।
গ) উদ্দীপকের দৃশ্যপটটি 'ফাগুন মাস' কবিতার 'ফাগুনটা খুব ভীষণ দস্যি মাস / পাথর ঠেলে মাথা উঁচোয় ঘাস' অংশের সঙ্গে গভীর সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে প্রকৃতির মধ্যে বসন্তের আগমন বার্তা ফুটে উঠছে, যেখানে সবুজ পাতা এবং আমের মুকুলে মৌমাছির গুঞ্জন এবং কোকিলের মায়াবী কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, যা প্রকৃতির জীবন্ত এবং সতেজ রূপের প্রতীক। একইভাবে, কবিতায় ফাগুন মাসের আগমনকে শক্তি ও সতেজতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 'পাথর ঠেলে মাথা উঁচোয় ঘাস' লাইনটি প্রকৃতির উদ্যম এবং জীবনের শক্তির উদ্ভাস হিসেবে দেখা যায়, যা উদ্দীপকের দৃশ্যপটের সঙ্গেও মিলিত হয়।
এছাড়া, কবিতায় 'সবুজ আগুন জ্বলে' এমন একটি ধারণা দেয়, যেখানে প্রকৃতির সতেজতা এবং তার শক্তি একত্রিত হয়ে জ্বলে ওঠে, যা উদ্দীপকের বাগানে পাতা এবং মুকুলের উজ্জ্বলতার মতোই। এই উজ্জ্বলতা ও জাগরণ ফাগুন মাসের আগমনের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। উদ্দীপকে যেমন বসন্তের মৃদু সুর, গাছের পাতা ও কোকিলের কণ্ঠে বসন্তের আগমন অনুভূত হচ্ছে, ঠিক তেমনি কবিতায়ও ফাগুন মাস প্রকৃতির নতুন জীবন এবং সতেজতার বার্তা বহন করে।
ঘ) উদ্দীপকে 'ফাগুন মাস' কবিতার মূলভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি—এই মন্তব্যটি যথাযথ, কারণ উদ্দীপকে বসন্তের আগমনের কিছু উপাদান থাকলেও কবিতার গভীরতর বিষয়বস্তু, যা ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি, দুঃখ ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে, তা এখানে অনুপস্থিত।
কবিতায় ফাগুন মাসের মধ্যে একদিকে যেমন নতুন জীবন, সবুজতা, ও সতেজতা ফুটে উঠেছে, তেমনি আরেকদিকে তা সংগ্রাম, দুঃখ, রক্তপাত এবং শোকের প্রতীকও হয়ে ওঠে। কবিতার এই অংশ ভাষা আন্দোলন, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের প্রতি ইঙ্গিত দেয়, যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। উদ্দীপক কেবল প্রকৃতির রূপ এবং বাসন্তী সুরের কথা বলছে, কিন্তু কবিতার সংগ্রামী, দুঃখী এবং ঐতিহাসিক চেতনা এখানে অনুপস্থিত।
উদ্দীপকে প্রকৃতির সবুজ পাতা, আমের মুকুল এবং কোকিলের গানকে তুলে ধরা হলেও এটি মূলত প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং ঋতুর পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। 'ফাগুন মাস' কবিতায় প্রকৃতি এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনার একটি মিশ্রণ রয়েছে, যেখানে একদিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য, অন্যদিকে মানুষের সংগ্রাম এবং শোকের অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপক শুধুমাত্র বসন্তে প্রকৃতির জেগে ওঠার কথা বলছে, কিন্তু কবিতার দুঃখ ও সংগ্রামের বিষয়টি এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
কবিতায় ভাষা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেমন 'ফাগুন মাসে দুঃখী গোলাপ ফোটে'—এটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের শোক ও ত্যাগের প্রতীক। উদ্দীপকে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত, যা কবিতার মূলভাবের অংশ।
অতএব, উদ্দীপকে 'ফাগুন মাস' কবিতার মূলভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি, কারণ এখানে কবিতার ঐতিহাসিক ও সংগ্রামী দিকগুলো অনুপস্থিত, যা কবিতার আসল চেতনা এবং উদ্দেশ্যকে গভীরভাবে ধারণ করে।