Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ১৯শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: সাত ভাই চম্পা

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 19 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. রুহিন ও তুনীন দুই ভাই। নির্জন বালুচর দিয়ে দুই ভাই হাঁটছিল দূরে কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে। দুপুর গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা। হঠাৎ বড় ভাই রুহিনের পায়ে কী যেন একটা ঠেকল। দুই ভাই ভালো করে লক্ষ করে বুঝতে পারল এটি একটি মাটির জালা। জালাটির ঢাকনা তুলতেই বিরাটকায় এক দৈত্য বেরিয়ে এলো। দৈত্য বেরিয়ে এসে বলল, আমি জ্বিনের বাদশাহ, আমাকে একজন এর মধ্যে প্রায় বিশ বছর বন্দি করে রেখেছিল। তোমরা আমাকে মুক্ত করে খুবই উপকার করেছ। আমি তোমাদের উপকারের প্রতিদানস্বরূপ যা চাইবে তা- ই দিতে চাই; তবে শর্ত হলো- একজন যা চাইবে অপরজন তার দ্বিগুণ পাবে। ছোট ভাই তুনীন সব সময় বড় ভাইকে ঈর্ষা করত। তাই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইল না। সে ভেবেচিন্তে বলল, আমার এক হাত, এক পা লুলা এবং এক চোখ ও এক কান অন্ধ ও বধির করে দাও।
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার কোন বইয়ের জন্য বাঙালি পাঠকসমাজে অধিক পরিচিত?১
  2. খ) ছোট রানি কীভাবে ঘুঁটে কুড়ানি হলো? বুঝিয়ে বলো।২
  3. গ) উদ্দীপকের ছোট ভাই তুনীনের আচরণে বড় রানিদের সাদৃশ্য ফুটে ওঠে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।৩
  4. ঘ) উদ্দীপকটি 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র—যৌক্তিক বিচার কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার 'ঠাকুরমার ঝুলি' নামক বইয়ের জন্য বাঙালি পাঠকসমাজে অধিক পরিচিত।
খ) বড় রানিদের গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে ছোট রানি ঘুঁটে কুড়ানি হলো। রাজার সাত রানি থাকলেও ছোট রানি শান্ত হওয়ার কারণে রাজা তাকে বেশি ভালোবাসেন। আবার ছোট রানির সন্তান হওয়ার সংবাদ শুনে বড় রানিরা গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। ছোট রানি সাতটি পুত্র এবং একটি কন্যাসন্তান জন্ম দিলে বড় রানিরা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং রাজাকে মিথ্যা কথা বলে। তারা সন্তানের পরিবর্তে ইঁদুর ও ব্যাঙের ছানা দেখালে রাজা ছোট রানিকে রাজপুরী থেকে বের করে দেন। আর এ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ছোট রানি পথে পথে ঘুঁটে-কুড়ানি হলো।
গ) ঈর্ষাপরায়ণ ও স্বার্থপরতার মাধ্যমে উদ্দীপকের ছোট ভাই তুনীনের আচরণে গল্পের বড় রানিদের সাদৃশ্য ফুটে ওঠে। ঈর্ষাপরায়ণ ও স্বার্থপর ব্যক্তি অন্যের ভালো দেখতে পারে না। পরের কল্যাণ বা ভালো কিছু দেখলে এ শ্রেণির মানুষ নিজে নিজে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। এরা অপরের ক্ষতি করতে কখনো দ্বিধা করে না। উদ্দীপকের ছোট ভাই তুনীন একজন ঈর্ষাপরায়ণ ও প্রচণ্ড স্বার্থপর ব্যক্তি। সে এতটাই মন্দ যে নিজের বড় ভাইয়ের ক্ষতি করতেও পিছপা হয়নি। তাকে যখন কলসির দৈত্য প্রস্তাব দিয়েছে; আর সে তখন বড় ভাই রুহিনের ধ্বংস কামনা করে নিজের এক হাত, এক পা লুলা বা এক চোখ অন্ধ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে রাজার সাত রানি থাকলেও রাজা ছোট রানিকে বেশি ভালোবাসেন। আবার ছোট রানির সন্তান হওয়ার কথা শুনে বড় রানিরা ঈর্ষায় জ্বলতে থাকে। এ জন্য বড় রানিরা ছোট রানিকে রাজ্যছাড়া করতে গভীর ষড়যন্ত্র করে। ছোট রানির সাত পুত্র এবং এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলে বড় রানিরা তা গোপন করে রাজার কাছে ইঁদুর ও ব্যাঙের ছানার কথা বলে। আর এভাবেই উদ্দীপকের তুনীনের আচরণে গল্পের বড় রানিদের ঈর্ষাপরায়ণতার সাদৃশ্য ফুটে ওঠে।
ঘ) সামগ্রিক বিচারে উদ্দীপকটি 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের একটি খণ্ডচিত্র—উক্তিটি যথার্থ। আমাদের সমাজে ভালো-মন্দ, ধনী-গরিব, স্বার্থপর-পরোপকারী ইত্যাদি শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। সাধারণত ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি পরের কল্যাণ বা মঙ্গল চায় না। এরা অপরের সুখ-শান্তি দেখে ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকে। কিন্তু এদের পরিণাম কখনো ভালো হয় না। উদ্দীপকে দেখা যায়, রুহিন ও তুনীন নামের দুই ভাই নির্জন বালুচরে হাঁটার সময় একটা মাটির জালার সন্ধান পায়। সেই জালার মুখ খুলতেই এক বিরাট দৈত্য এসে নিজেকে জ্বিনের বাদশাহ বলে পরিচয় দেয়। আর জানায়, তাদের এক ভাই যা চাইবে অপর ভাই তার দ্বিগুণ পাবে। ছোট ভাই তুনীন বড় ভাইয়ের সবকিছুতে ঈর্ষা করত বলে সে নিজের এক হাত, এক পা, এক চোখ অন্ধ করার কথা বলে। যাতে তার বড় ভাইয়ের দুই হাত, পা, দুই চোখ, কান নষ্ট হয়ে যায়; আর সে একা সবকিছুর মালিক হয়। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে রাজা ছোট রানিকে বেশি ভালোবাসে এবং তার সন্তান হওয়ার সংবাদে অনেক খুশি হয়। কিন্তু বড় রানিরা ছোট রানির ক্ষতি করতে তার সাত সন্তানের পরিবর্তে কয়েকটি ইঁদুর ও ব্যাঙের ছানা রাজাকে দেখায়। কিন্তু, অনেক বছর পর সাত ভাই চম্পা এবং বোন পারুলের মাধ্যমে রাজা তার ভুল বুঝতে পেরে বড় রানিদের কঠিন শাস্তি দেন। আর ছোট রানি, সাত পুত্র ও এক কন্যা নিয়ে রাজা মনের সুখে রাজপুরীতে চলে আসেন। উপরের বিচার-বিবেচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের একটি খণ্ডাংশ মাত্র। কারণ উদ্দীপকে ছোট ভাইয়ের শুধু ঈর্ষাপরায়ণতার কথা জানা যায়; যা গল্পের একটি অংশমাত্র।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. রাজা ছোট রানিকে কেন সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন? খ. ছোট রানি কীভাবে ঘুঁটে কুড়ানি হয়ে গেলেন? আলোচনা করো।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. রাজা তাঁর সাত রানির মধ্যে ছোট রানিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, সরল ও মৃদুভাষী। অন্য রানিরা নিজেদের অবস্থান নিয়ে গর্ব করতেন এবং অহংকারে মাটিতে পা দিতেন না। তারা নিজেদের দেমাগী স্বভাবের কারণে অন্যদের অবহেলা করতেন। কিন্তু ছোট রানি এসব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিলেন। তিনি ছিলেন অহংকারহীন, বিনয়ী এবং সবার প্রতি সদয়। রাজা এই নম্রতা ও দয়ালু স্বভাবের জন্যই ছোট রানিকে সবচেয়ে বেশি স্নেহ করতেন। তবে রাজা ছোট রানিকে ভালোবাসলেও, গল্পের একপর্যায়ে দেখা যায়, তিনি অন্যদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ছোট রানির প্রতি অন্যায় করেন। বড় রানিদের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে ছোট রানিকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেন, যা প্রমাণ করে যে তিনি আবেগপ্রবণ হলেও সবসময় সুবিচার করতে পারেননি। খ. ছোট রানি ছিলেন রাজপ্রাসাদের অন্যতম প্রধান রানি, যাকে রাজা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। কিন্তু রাজ্যের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী না থাকায় রাজা চিন্তিত ছিলেন। বহুদিন পর ছোট রানি অন্তঃসত্ত্বা হলে রাজা অত্যন্ত খুশি হন এবং রাজ্যে আনন্দের ঘোষণা দেন। তিনি প্রাসাদের নিয়ম অনুসারে ছোট রানির কোমরে সোনার শিকল বেঁধে দেন এবং বলেন, 'যখন সন্তান হবে, তখন শিকলে নাড়া দিও, আমি এসে সন্তান দেখব।' কিন্তু রাজ্যের অন্য বড় রানিরা ছোট রানির এই আনন্দ সহ্য করতে পারলেন না। তারা ছিলেন ঈর্ষান্বিত ও ষড়যন্ত্রকারী। তাই যখন ছোট রানির সন্তান প্রসবের সময় এলো, তখন তারা আঁতুড়ঘরে গিয়ে ছোট রানির সাত ছেলে ও এক মেয়েকে গোপনে হাঁড়িতে পুরে পাঁশগাদায় পুঁতে ফেললেন এবং শিকলে নাড়া দিয়ে রাজাকে কতকগুলো ব্যাঙের ছানা ও ইঁদুরের ছানা দেখালেন। রাজা এই দৃশ্য দেখে ক্ষুব্ধ হলেন এবং ছোট রানিকে রাজপ্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দিলেন। এই ঘটনা ছিল ছোট রানির জীবনে সবচেয়ে বড় অন্যায় ও দুর্ভাগ্যের কারণ। রাজপ্রাসাদ থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন। বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি ঘুঁটে-কুড়ানি দাসী হয়ে পথে পথে ঘুরে জীবন কাটাতে থাকেন। একসময়ের রাজপ্রাসাদের সবচেয়ে ভালোবাসার রানির এই বিবর্ণ জীবন ছিল ষড়যন্ত্রের নির্মম পরিণতি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য বদলায়, যখন পাঁশগাদায় ফোটা সাত চাঁপা ও এক পারুল ফুল ঘুঁটে-কুড়ানি ছোট রানি না আসা পর্যন্ত কাউকে ফুল দেয় না এবং শেষে ফুলের ভেতর থেকে সাত রাজপুত্র ও এক রাজকন্যা "মা" বলে ছোট রানির কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সত্য প্রকাশিত হলে রাজা তার ভুল বুঝতে পারেন এবং ছোট রানিকে আবার সম্মানের সঙ্গে রাজপ্রাসাদে ফিরিয়ে নেন।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. রাজা ছোট রানিকে রাজপুরী থেকে বের করে দিলেন কেন? খ. বড় রানিদের মুখে আর হাসি ধরে না—কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. রাজা ছোট রানিকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তার মা হওয়ার সংবাদে রাজ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু বড় রানিরা ঈর্ষান্বিত হয়ে ছোট রানির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেন। যখন ছোট রানি সন্তান প্রসব করেন, তখন বড় রানিরা ধূর্ততার আশ্রয় নেন। তারা শিশুগুলোকে গোপনে মাটির হাঁড়িতে ভরে পাঁশগাদায় পুঁতে ফেলেন এবং রাজাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কিছু ব্যাঙ, ইঁদুর ও কাঁকড়া এনে বলেন যে এগুলোই ছোট রানির গর্ভজাত সন্তান। রাজা যখন এই দৃশ্য দেখেন, তখন তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত হন। তিনি ভাবেন যে ছোট রানির গর্ভ থেকে মানুষের পরিবর্তে ভয়ানক প্রাণী জন্মেছে, যা ছিল সামাজিকভাবে অপমানজনক ও অলৌকিক ব্যাপার। এতে তিনি এতটাই রেগে যান যে ক্ষোভের বশে ছোট রানিকে রাজপুরী থেকে বের করে দেন এবং তাকে পরিত্যাগ করেন। তবে, এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো রাজা মূলত বড় রানিদের মিথ্যার শিকার হন। তিনি সত্য যাচাই না করেই আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেন, যা ছোট রানির জীবনে চরম দুর্দশা ডেকে আনে। খ. ছোট রানির গর্ভধারণের খবর শুনে বড় রানিরা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। কারণ রাজা ছোট রানিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন এবং তার সন্তান জন্মালে স্বাভাবিকভাবেই সে রাজ্যের উত্তরাধিকারী হতো। এতে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে যেত। তাই তারা ষড়যন্ত্র করে ছোট রানির নবজাতক সন্তানদের মাটি চাপা দিয়ে রাজাকে প্রতারিত করেন। রাজা যখন ব্যাঙ, ইঁদুর ও কাঁকড়া দেখে ক্ষুব্ধ হন এবং ছোট রানিকে রাজপুরী থেকে বের করে দেন, তখন বড় রানিরা স্বস্তি অনুভব করেন। তারা মনে করতে থাকেন, এখন আর তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই, রাজপুরীতে ছোট রানির স্থান নেই, এবং তারা নিজেদের ইচ্ছামতো রাজা ও রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। এই ষড়যন্ত্র সফল হওয়ার পর বড় রানিদের মনে আনন্দ ও তৃপ্তি জন্মে, তাই গল্পে বলা হয়েছে 'বড় রানিদের মুখে আর হাসি ধরে না'। অর্থাৎ, তারা এতটাই খুশি হন যে নিজেদের উচ্ছ্বাস লুকাতে পারেন না। তবে, তাদের এই আনন্দ স্থায়ী ছিল না। শেষ পর্যন্ত সাত চম্পা ও এক পারুল ফুল হয়ে তাদের হারানো সন্তানরা ফিরে এলে সত্য উন্মোচিত হয় এবং রাজা তাদের কঠিন শাস্তি দেন। তখন তাদের সেই হাসি চিরতরে মুছে যায়।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।