সৃজনশীল (CQ)
১. দিদির বেদ পাঠের সময় প্রতিদিন অনন্যা তার দিদির পাশে বসে থাকে। বেদের আলোচনা ঈশ্বরকে ঘিরে। ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে হয় ধ্যানের মাধ্যমে। বেদপাঠ শুনে সে জানতে পারে, ধ্যান করতেন ঋষিরা। ধীরে ধীরে অনন্যার মনে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তিভাব জাগ্রত হয়। সে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করে। বেদের জ্ঞান অনন্যার জীবনকে বদলে দেয়।
- ক) বেদ অর্থ কী?১
- খ) ধর্মগ্রন্থ বলতে কী বোঝ?২
- গ) বেদের জ্ঞান কীভাবে অনন্যার জীবনকে বদলে দেয়? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) অনন্যার শ্রুত এই গ্রন্থটি ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া এক পবিত্র জ্ঞান— বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) 'বেদ' শব্দের অর্থ হলো জানা বা জ্ঞান।
খ) যে গ্রন্থে ধর্মের কথা থাকে, তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে।
ধর্মগ্রন্থে থাকে ঈশ্বরের বাণী ও মাহাত্ম্যের বর্ণনা। থাকে সৎ ও পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের বিধিবিধান। আমাদের মঙ্গল হয়, এমন উপদেশও থাকে। এ সকল উপদেশ যে কেবল সরাসরি দেওয়া হয় তা নয়। উপাখ্যানের মধ্য দিয়েও বিভিন্ন উপদেশ দেওয়া হয়। এ সকল উপদেশের মাধ্যমে আমরা পাই নৈতিক শিক্ষা। ধর্মগ্রন্থ হলো এরূপ নৈতিক শিক্ষার উৎস।
গ) বেদের পবিত্র জ্ঞান অনন্যার মনে ঈশ্বরপ্রীতি জাগ্রত করে তার জীবনকে বদলে দিতে সাহায্য করে।
বেদ হলো ঈশ্বরের বাণী। বেদ ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান। বেদ পাঠ করলে ধর্ম ও ব্রহ্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয়। বেদের এ পবিত্র জ্ঞান অনন্যার মনে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি জাগ্রত করবে। অনন্যা ঈশ্বরের প্রতি একান্তভাবে অনুরক্ত হবে এবং সৎপথে নিজেকে পরিচালিত করতে সচেষ্ট হবে। ধ্যানযোগে বেদমন্ত্র পাঠ করলে তার মনে স্থিরতা আসবে। বেদের পবিত্র জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অনন্যা তার জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। সে সর্বদা নিজেকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করার মনোবৃত্তি ধারণ করবে।
উদ্দীপকের অনন্যা নিজেকে সব রকম খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে এবং মঙ্গল কামনায় ব্রতী হবে। এভাবেই বেদের জ্ঞান অনন্যার জীবনকে সুপথে পরিচালিত করবে এবং তার জীবনকে বদলে দেবে।
ঘ) অনন্যার শ্রুত গ্রন্থটি হলো বেদ যা ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান। এটি হিন্দুধর্মের প্রধান ও আদি গ্রন্থ। কোনো পুরুষ এ গ্রন্থের প্রণেতা নন। ঋষিগণ সাধু পুরুষ। তাঁরা এক মনে, এক ধ্যানে ঈশ্বরের আরাধনা করেন, তাদের আরাধনায় ঈশ্বর তুষ্ট হন। ঋষিগণ নিজের মাঝে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেন। যাঁরা ঋষি তাঁদের মুখ থেকে নিঃসৃত হয় সেই বাণী যা ঈশ্বরেরই বাণী।
যোগী ঋষিগণ ঈশ্বরের আরাধনা করেন এবং তাঁরা মোক্ষলাভ করেন। ধর্মের বিভিন্ন বিষয় ঋষিগণ ধ্যানযোগে পেয়েছিলেন। বেদে যে জ্ঞান রয়েছে তা ঋষিগণ ধ্যানের মাধ্যমেই পেয়েছেন।
ধ্যানযোগে পাওয়া সেই বাণীগুলোতে ঈশ্বরের দেখা মেলে। ঈশ্বরকেও তাঁরা পেয়েছিলেন ধ্যানে। সাধকের একমাত্র আরাধ্য বিষয় ঈশ্বর প্রাপ্তি আর তা সম্ভব ধ্যানে। তাই বলা যায়, অনন্যার শ্রুত বেদ গ্রন্থটি ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া এক পবিত্র জ্ঞান।
সূত্র: হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, দ্বিতীয় অধ্যায়: ধর্মগ্রন্থ, বেদ