সৃজনশীল (CQ)
১. কমলা রায় স্বামীর রেখে যাওয়া বিপুল ধন-সম্পদ দিয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। তিনি গরিবদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন, চলাফেরার সুবিধার জন্য রাস্তাঘাট তৈরি এবং লেখাপড়ার সুবিধার জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। তিনি বন্যার কবল থেকে এলাকাকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। তাই আজও এই জেলার মানুষ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
- ক) "কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্"−অর্থ কী?১
- খ) মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীদের জীবনী আমাদের কাছে আদর্শ জীবনচরিত হিসেবে বিবেচ্য কেন?২
- গ) উদ্দীপকের কমলা রায়ের কাজের সাথে আদর্শ 'জীবনচরিত' অধ্যায়ের কোন মনীষীর কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) 'সেবামূলক কাজে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমেই ঐ মনীষী এবং কমলা রায় সমান যশের অধিকারী'- বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।
খ) মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীদের জীবনী আমাদের কাছে আদর্শ জীবনচরিত হিসেবে বিবেচ্য। কারণ তাঁরা বিশ্বজগতের কল্যাণের জন্যই এই পৃথিবীতে এসেছেন। তাঁরা আজীবন মানুষের কল্যাণ করেছেন, মঙ্গল করেছেন। আমাদের চলার পথের সহায়ক হিসেবে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি তাঁদের জীবনী থেকে। জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য তাঁদের আদর্শই আমাদের অনুপ্রেরণা প্রদান করে। এজন্যই তাঁরা আমাদের কাছে আদর্শ।
গ) উদ্দীপকের কমলা রায়ের কাজের সাথে 'আদর্শ জীবনচরিত' অধ্যায়ের রাণী রাসমণির কাজের মিল রয়েছে।
রাণী রাসমণি ছিলেন এক মহীয়সী নারী। তিনি জনকল্যাণে অনেক কাজ করে গেছেন। তিনি ১২৩০ সনের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যার্থে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনি পুণ্যভূমি জগন্নাথ ক্ষেত্রের তীর্থ যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সমস্ত রাস্তা সংস্কার করে দেন। তাছাড়া তিনি প্রজাদের উন্নতিকল্পে এক লক্ষ টাকা খরচ করে 'টোনার খাল' খনন করান। এছাড়া সোনাই, বেলিয়াঘাটা ও ভবানীপুরে বাজার স্থাপন এবং কালীঘাটে ঘাট নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই যে, কমলা রায় জনকল্যাণমূলক নানা রকম কাজ করেছেন। তিনি গরিবদের চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র, রাস্তাঘাট সংস্কার, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। সুতরাং, কমলা রায়ের কাজের সাথে রাণী রাসমণির জনকল্যাণমূলক কাজের যথেষ্ট মিল রয়েছে একথা বলা যায়।
ঘ) সেবামূলক কাজে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমেই রাণী রাসমণি এবং কমলা রায় সমান যশের অধিকারী- প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।
রাণী রাসমণি ছিলেন জনসেবায় নিবেদিত। তিনি সর্বদা প্রজাদের সুখের কথা, সুবিধার কথা চিন্তা করতেন। তিনি সেবামূলক কাজে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। ১২৩০ সনের বন্যায় যখন তাঁর প্রজারা বিশাল ক্ষতির শিকার হন, তখন রাসমণি তাদেরকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন। মানুষের চলাফেরা করার জন্য নিজ অর্থ ব্যয় করে রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছেন। প্রজাদের সুবিধার্থে লক্ষ টাকা খরচ করে 'টোনার খাল' খনন করেছিলেন যা সেবামূলক কাজেরই বহিঃপ্রকাশ।
উদ্দীপকেও দেখা যায় যে, কমলা রায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করে সেবামূলক কাজ করেছিলেন। গরিব লোকদের কথা চিন্তা করে দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিজ অর্থ ব্যয় করে মানুষের চলাফেরার জন্য রাস্তাঘাট তৈরি করেছিলেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন যা রাসমণির কাজের সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুতরাং বলা যায়, সেবামূলক কাজে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে রাণী রাসমণি ও উদ্দীপকের কমলা রায় সমান যশের অধিকারী।