সৃজনশীল (CQ)
১. সারণিটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
| বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা |
| ১৯৬১ | ৫.৫২ কোটি |
| ১৯৭৪ | ৭.৬৪ কোটি |
| ১৯৯১ | ১১.১৫ কোটি |
| ২০০১ | ১২.৯৩ কোটি |
| ২০০৭ | ১৪.০৬ কোটি |
| ২০১১ | ১৪.৯৭ কোটি |
- ক) বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কত?১
- খ) বসতি স্থানান্তর কীভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে—ব্যাখ্যা কর।২
- গ) ১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) '১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে'—পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর।
খ) বসতি স্থানান্তর জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কারণ এটি নতুন এলাকায় মানুষের স্থায়ী বসবাস নিশ্চিত করে, যা জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ায়।
উন্নত কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ আবাসনের ফলে সেখানে বসবাসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং জন্মহারও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এছাড়া, অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন অঞ্চলে বসতি স্থাপন সহজ হয়, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেলে সেই এলাকাগুলোর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে বসতি স্থানান্তর দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
গ) উল্লিখিত সারণি থেকে বোঝা যায় যে, ১৯৬১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৫.৫২ কোটি, যা ২০০৭ সালে বেড়ে ১৪.০৬ কোটিতে পৌঁছেছে। এ সময়ে জনসংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ (১৪.০৬ ÷ ৫.৫২ ≈ ২.৫৫ গুণ) বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো ১৯৬১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে জন্মহার ও মৃত্যুহারের মধ্যে বিরাট ব্যবধান থাকা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে শিশুমৃত্যুর হার কমে গেছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া, বাল্যবিবাহের প্রচলনের ফলে জন্মহার বেশি ছিল। শিক্ষার অভাবের কারণে অনেকেই জন্ম নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। তদুপরি, অনেক বাবা-মা পুত্রসন্তানের আশায় একাধিকবার সন্তান গ্রহণ করায় জনসংখ্যা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণেই ২০০৭ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৯৬১ সালের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে।
ঘ) সারণি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। অধিক জনসংখ্যার চাপ যে জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা দেশের মানুষ বুঝতে পারছে। ফলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারসহ সবাই এখন আরও সচেতন। সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, এবং জনগণও এতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে দেশ বৈশ্বিক অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়েছে, যা সবাই উপলব্ধি করতে পারছে। সারণির তথ্য থেকে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার হিসাব করলে দেখা যায়, ১৯৭৪–১৯৯১ সময়ে জনসংখ্যা ৭.৬৪ কোটি থেকে ১১.১৫ কোটি হয়েছে, অর্থাৎ বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার প্রায় ২.২%। কিন্তু ১৯৯১–২০০১ সময়ে (১১.১৫ → ১২.৯৩ কোটি) এ হার প্রায় ১.৫% এবং ২০০১–২০০৭ সময়ে (১২.৯৩ → ১৪.০৬ কোটি) প্রায় ১.৪%। ২০০৭–২০১১ সময়েও হার (প্রায় ১.৬%) ১৯৯১-এর আগের তুলনায় অনেক কম। এভাবে জনগণের সচেতনতার কারণে ১৯৯১ সাল থেকে ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে।