সৃজনশীল (CQ)
১. রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। অবসর গ্রহণ করার পর ষাটোর্ধ্ব বয়সে তিনি একাকিত্বে ভুগছেন। শারীরিকভাবে তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। কিন্তু কেউ তার খোঁজখবর ঠিকমতো রাখে না, কারণ তার সন্তানেরা সবাই নিজেদের পরিবার নিয়ে শহরে বাস করেন। সেখানে তার স্থান হয়নি।
- ক) প্রবীণ ব্যক্তিদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ মূলত কোন ধরনের অধিকার?১
- খ) প্রবীণদের মধ্যে হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয় কেন?২
- গ) ষাটোর্ধ্ব রফিক সাহেব কোন ধরনের সমস্যার শিকার হয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) রফিক সাহেবের মতো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারাও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যার মোকাবিলা করেন- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) প্রবীণ ব্যক্তিদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ মূলত অংশগ্রহণ সংশ্লিষ্ট অধিকার।
খ) পরিবার ও সমাজে কোণঠাসা অবস্থা প্রবীণদের মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়। তারা নিজেদেরকে খুব অবহেলিত ও অসহায় ভাবতে শুরু করেন। নিজস্ব সহায় সামর্থ্যের অভাব এবং সেই সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতা এই হীনম্মন্যতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রবীণ বয়সের স্মৃতিবিভ্রমও এক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা সৃষ্টি করে।
গ) ষাটোর্ধ্ব তথা প্রবীণ রফিক সাহেব পারিবারিক সমস্যার শিকার হয়েছেন। আমাদের দেশে এক সময় পরিবারগুলো ছিল একান্নবর্তী। সে সময় পরিবারে প্রবীণদের এক ধরনের কর্তৃত্ব বা মুরব্বিস্থানীয় ভূমিকা ছিল। কিন্তু শিল্পায়ন, নগরায়ন ও মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনের ফলে একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে গিয়ে ছোট ছোট পরিবারে পরিণত হচ্ছে। এই পরিবার ব্যবস্থায় বৃদ্ধ বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ির স্থান থাকছে না। তাদের দেখাশোনা বা অসুখ-বিসুখে সেবাযত্নের লোকের অভাব ঘটছে। তাঁদেরকে সঙ্গ দেওয়ার বা তাঁদের সঙ্গে গল্পগুজব করার লোক থাকছে না। ফলে তারা এক ধরনের নিঃসঙ্গতা ও বিমর্ষতার শিকার হচ্ছেন। উদ্দীপকে রফিক সাহেবের সন্তানেরা শহরে বাস করেন বলে কেউ তার খোঁজখবর রাখে না। তাদের বাসায়ও তার স্থান হয়নি। তিনি একাকিত্বে ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তাই বলা যায়, রফিক সাহেব পারিবারিক সমস্যার শিকার।
ঘ) অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও রফিক সাহেবের মতো বয়সের ব্যক্তিরা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যা মোকাবিলা করেন। পাঠ্যপুস্তকের বর্ণনার আলোকে স্পষ্ট যে এক সময় আমাদের দেশে প্রবীণদের প্রতি যে ধরনের সম্মান দেখানো হতো এখন আর তা দেখা যায় না। প্রবীণ বলেই তারা অবহেলার শিকার। বস্তুত বর্তমানে মূল্যবোধের বিপর্যয়, নৈতিক শিক্ষার অভাব, বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব, আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব প্রভৃতি কারণে প্রবীণদের উপেক্ষা করা হয়। তাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। পরিবারে ও সমাজে অপ্রয়োজনীয় বিবেচনা করা হয়। তাদের পাশে বসে কেউ কথা শোনে না। অবসরযাপন বা চিত্তবিনোদনের সুযোগও নেই বললেই চলে। তাই সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করেও প্রবীণ হওয়ার কারণে রফিক সাহেবের মতো ব্যক্তিরা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যার মোকাবিলা করেন।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অধ্যায় ৯, প্রবীণদের সমস্যা